‘হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়’, মগরাহাটে পুনর্নির্বাচনে ভাইঝির কাঁধে চড়ে বুথে এসে ক্ষোভ আয়েশার
প্রতিদিন | ০২ মে ২০২৬
শনিবার রাজ্যের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন করছে কমিশন। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার ১১টি ও ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার ৪টি বুথে ফের ভোট হচ্ছে। সকাল থেকে মগরাহাটের বিভিন্ন বুথে ভিড়। তার মধ্যে একটি বুথে ভাইঝির কাঁধে চড়ে ভোট দিতে এলেন আয়েশা খাতুন। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ফের ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্ত তিনি। তাঁর দাবি, এখানে কোনও গন্ডগোলই হয়নি। তা সত্ত্বেও কেন দ্বিতীয়বার ভোট দিতে হচ্ছে বুঝতে পারছেন না। আয়েশা জানান, “এ হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।”
নাজরা এফ পি স্কুলে মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৬ ও ১২৭ নম্বরের দু’টি বুথ রয়েছে। ১২৬ নম্বর বুথে মোট ভোটার ১০৪৯ জন। পুরুষ ভোটার ৫৪৪ জন। মহিলা ভোটার ৪৯৮ জন। ১২৭ নম্বর বুথে পুরুষ ভোটার ৫৪৩ জন। মহিলা ভোটার ৪৭৬ জন। পুনর্নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই দু’টি বুথেই ভোটারদের লম্বা লাইন।
এখানকার ভোটার আয়েশা খাতুন ভাইঝির কাঁধে চড়ে ভোট দিতে আসেন। তিনি জানান, “প্রথম দিন ভোট দিয়েছি শান্তিতেই। কোনও গন্ডগোলই হয়নি। তা সত্ত্বেও কেন দ্বিতীয়বার ভোট দিতে হচ্ছে বুঝতে পারলাম না। এ হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু ভোটাধিকার প্রয়োগ করতেই হবে, তাই আসা।”
আয়েশার মতোই নাজরা এফপি স্কুলে ভোট দিতে এসেছিলেন আকলিমা খাতুন, অমরনাথ মণ্ডল, পীর আলি লস্কর ও নুরজাহান বিবিরা। তাঁদের প্রত্যেকের মুখে একই কথা। তাঁদের কথায়, “প্রথম দিন কোনও গন্ডগোল ছাড়াই ভোট দিয়েছি। তা সত্ত্বেও দ্বিতীয়বার ভোট দিতে আসার এই হয়রানি কিছুতেই মানতে পারছি না। জানি না কেন দ্বিতীয়বার ভোট দিতে হচ্ছে।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ১২৭ নম্বর বুথে ইভিএমে টেপ মারা ছিল। ১২৬ ও ১২৭ নম্বর বুথ পাশাপাশি হওয়ায় তাই আজ, শনিবার ফের ভোট হচ্ছে। মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, “১২৭ নম্বর বুথে ইভিএমে টেপ মারার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু প্রথম দিনের ভোটে পর্যবেক্ষক সব ঠিক আছে বলে রিপোর্ট দিয়েছিলেন। টেপ মারার কোনও ভিডিও প্রমাণ আমাদের দেখাতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনের মর্জি মতো পুনর্নির্বাচন করছে।”