জনসাধারণের ব্যবহারের জমিতে নমাজ পড়া বা ধর্মীয় জমায়েত করা মৌলিক অধিকার নয়— সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার ইকোন গ্রাম সংলগ্ন একটি জমিতে নমাজ পড়ার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন করা হয়েছিল আদালতে। সেই আবেদন খারিজ করে এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। বিচারপতি গরিমা প্রসাদ এবং বিচারপতি সরল শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ এই মত দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে আরও জানিয়েছে, সর্বসাধারণের ব্যবহারের জমি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় কাজে কোনও ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।
মামলাকারী আদালতে দাবি করেছিলেন, ওই জমি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি। কিন্তু সেখানে নামাজ পড়ায় বাধা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের তরফে। মামলাকারী ২০২৩ সালের একটি দানপত্রের নথিও আদালতে পেশ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে নমাজ পড়ার জন্য প্রশাসনের আগাম অনুমতির প্রয়োজন নেই।
উত্তরপ্রদেশ সরকার আদালতে জানিয়েছে, ওই জমি সরকারি রেকর্ডে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য নথিভুক্ত। রাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে, ওই জমিতে শুধুমাত্র ইদের নমাজ পড়ার অনুমতি ছিল। নিয়মিত নমাজ পড়লে এলাকার শান্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকী আবেদনকারী ওই জমির মালিকানার পক্ষে কোনও যথাযথ প্রমাণ দিতে পারেনি বলে দাবি উত্তরপ্রদেশ সরকারের।
আদালত রাজ্য সরকারের যুক্তিকে মান্যতা দিয়েছে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ভাবে প্রার্থনা এবং বড় জমায়েতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ব্যক্তিগত পরিসরের বাইরে যখনই বড় জমায়েত হয়, তখন সেটি জনস্বার্থের আওতায় চলে আসে। আদালত আরও জানায় যে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সরকার আগাম পদক্ষেপ নিতে পারে।