আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে এক সপ্তাহও কাটেনি। আইনি জটিলতায় ফাঁসলেন রাজ্যসভার সাংসদ সন্দীপ পাঠক। সংবাদসংস্থা IANS-এর খবর অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় পাঞ্জাব পুলিশ দু’টি মামলা দায়ের করেছে। সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় শনিবারই নয়াদিল্লির সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন তিনি।
গত সপ্তাহেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের AAP ছেড়ে রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে সাত জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেন। সেই তালিকাতেই আছেন সন্দীপ পাঠকও। এরই মধ্যে শনিবার সকালে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। তাতে দেখা যায়, সন্দীপের বাসভবনের সামনে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। এর পরেই আর একটি ভিডিয়োতে (ভিডিয়োর সত্যতা এই সময় অনলাইন যাচাই করেনি) দেখা যায়, পিছন দরজা দিয়ে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছেন। সূত্রের খবর, তাঁর ফোন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং তিনি কোথায় আছেন তা-ও স্পষ্ট নয়। এ দিকে তাঁকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিজেপির লিগ্যাল সেল সক্রিয় হয়েছে বলেও খবর।
রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্তা, স্বাতী মালিওয়াল এবং বিক্রমজিৎ সাহানি— এই সাত জন সাংসদ গত ২৪ এপ্রিল দল ছাড়ার ঘোষণা করেন। তাঁদের অভিযোগ, দল তার নীতি, আদর্শ ও মূল মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়েছে। মালিওয়াল ছাড়া বাকি ছ’জনই পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজ্যসভায়।
এই সাতজন সাংসদ একসঙ্গে দল ছাড়ায় মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ হওয়ায়, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী (অ্যান্টি-ডিফেকশন আইন) তাঁদের 'অযোগ্য' ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ঘোষণা করেছেন, তিনি ৫ মে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সঙ্গে দেখা করবেন। তাঁর দাবি, এই দলত্যাগ ‘অবৈধ’ ও ‘অসাংবিধানিক’ এবং এটি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল। ছয় সাংসদের বিদ্রোহের পরে পাঞ্জাব বিধানসভায় নিজের শক্তির প্রমাণ দিয়েছেন মান। ১১৭টি আসনের বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয় পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে আম আদমি পার্টির ৯৪ জন বিধায়ক রয়েছেন, কংগ্রেসের ১৬ জন, বিএসপি-র ১ জন, শিরোমণি অকালি দলের ৩ জন, বিজেপির ২ জন এবং একজন নির্দল বিধায়ক রয়েছেন। আস্থা ভোটের সময়ে ৮৮ জন AAP বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। দু’জন বিদেশে, দু’জন জেলে রয়েছেন এবং আরও দু’জন হাসপাতালে ছিলেন।
ভগবন্ত মান জানিয়েছেন, AAP-এর জনসমর্থন অটুট রয়েছে এবং ২০২৭ সালের নির্বাচনে তারা আরও বড় জয় পাবে।