ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ঝাড়গ্রাম ও লোধাশুলি রেঞ্জ। এই বনাঞ্চলের পাকাপাকি বাসিন্দা রামলাল। তবে মাঝে মধ্যেই জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে আসতে দেখা যায় তাকে। আবার কখনও ‘দাবাং’ মোডে শ্যামলালের সঙ্গে এলাকা দখলের লড়াই করতে গিয়ে জখম হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সভা কিংবা ভোট — জেলায় বড় কোনও ঘটনার দিনে তাকে নজরবন্দি করে রাখতে গিয়ে হিমশিম খান বনকর্মীরা। নানা নিরাপত্তা থাকলেও ফাঁক-ফোকর গলে সে ঠিক বেরিয়ে যায়। এ বার গরমের দাপটে নাজেহাল হয়ে লোকালয়ে এসে জলকাদা মেখে শরীর ঠান্ডা করতে দেখা গেল রামলালকে।
শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ শালবনিতে লোধাশুলি-ঝাড়গ্রাম জাতীয় সড়কে উঠে পড়ে রামলাল। তাকে দেখে থমকে দাঁড়ায় পথচলতি গাড়ি। রাস্তার আশেপাশে খাবার খুঁজতে থাকে সে। কিন্তু, আশেপাশে খাবারের সন্ধান না পেয়ে শেষমেশ রাস্তার পাশে জমে থাকা বৃষ্টির জল-কাদাতেই গা ভেজাতে দেখা যায় তাকে। শুঁড়ে করে জল-কাদা তুলে নিজের গায়ে ছিটিয়ে দেয় সে। রামলালকে দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রা। মোবাইলে রামলালের ছবি-ভিডিয়োও তোলেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক মাস ধরেই রামলাল নামে হাতিটি ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ঝাড়গ্রাম ও লোধশুলি রেঞ্জের শালবনি, গড় শালবনি, জিতুশোলের জঙ্গলে ঘোরাফেরা করছে। মাঝে মধ্যেই জঙ্গল ছেড়ে রাস্তায় উঠে খাবারের সন্ধান করতে দেখা গিয়েছে রামলালকে। প্রথম দফার নির্বাচনের দিনে নজরবন্দি করা সত্ত্বেও ঝাড়গ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে চলে যেতে দেখা যায় রামলালকে।
প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে ঝাড়গ্রাম-লোধাশুলি রেঞ্জের শালবনির জঙ্গলেরই বাসিন্দা শ্যামলালের সঙ্গে এলাকা দখলের লড়াই হয় রামলালের। সেই লড়াইতে রামলালের সামনের দিকের ডান পায়ে চোট লাগে। ফের যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতেই রামলালের উপরে নজরদারি বাড়িয়েছে বন দপ্তর।