• ‘পিছু হটতে হলো জ্ঞানেশ কুমারকে’, সুপ্রিম কোর্টের স্বীকৃতির পরেই বিবৃতি তৃণমূলের
    এই সময় | ০২ মে ২০২৬
  • ভোট গণনার সময়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই সরকারেরই কর্মচারীরা থাকবেন। নিয়ম মেনেই এই ভাবে গণনা কর্মীদের নিয়োগ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। তৃণমূলের মামলায় শনিবার এ কথা জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তাদের আর্জিতে শীর্ষ আদালত স্বীকৃতি দেওয়ার পরেই বাংলার শাসকদল একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে তারা লিখেছে, আদালতে পিছু হটতে হলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। যদিও এ বিষয়ে কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি।

    আগামী সোমবার অর্থাৎ, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। ভোট গণনার সময়ে শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের যাতে রাখা না হয়, তাঁদের সঙ্গে যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাও থাকেন, তৃণমূলের তরফে সেই আর্জি জানানো হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। শনিবার সেই শুনানির জন্য বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চ গড়া হয়। তৃণমূলের তরফে শনিবার আদালতে জানানো হয়, শুধুমাত্র একটি পুল থেকে (কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে থেকে) অফিসার নিয়োগ করা যায় না। গণনায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাডার থেকে সমসংখ্যক অফিসার রাখা হোক।

    তৃণমূলের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতিদের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন যে সার্কুলার জারি করেছিল, সেই অনুযায়ীই সরকারি কর্মচারীদের পুল তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ, কেন্দ্র ও রাজ্যের অফিসারদের মিলিয়েই পুল তৈরি করতে হবে। এই নিয়ম মেনে চলতে হবে কমিশনকে। এই নির্দেশে তৃণমূলের আবেদনকেই স্বীকৃতি দেওয়া হলো বলে মত আইনজীবীদের একাংশের।

    এ বিষয়ে পরে বিবৃতি জারি করে তৃণমূলের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিলের সার্কুলারে কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের ব্যাপারে ধারা-১-এ যা বলা আছে, সেটিকে ওই সার্কুলারেরই দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় উল্লিখিত মূল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে। ওই দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বাছাই করার ক্ষেত্রে ‘র‌্যান্ডম সিলেকশন’ পদ্ধতির কথাই বলা আছে। আদালতে শুনানির পর তৃণমূল আশা করছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ভোট গণনার প্রক্রিয়া স্বাধীন, স্বচ্ছ ও ভারসাম্য বজায় রেখেই হবে। অন্য দিকে, বিজেপির বক্তব্য, ১৩ এপ্রিল যে সার্কুলার জারি করেছিল কমিশন, তা মেনেই কাজ করার কথা বলে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    শনিবারের শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করেছিলেন কপিল সিবাল। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদনের জন্য তিনি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। তার পর তিনি বলেন, ‘আমাদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে নোটিস জারি করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেটা জানতে পারি ২৯ তারিখে। কমিশন আশঙ্কা করছে— প্রত্যেকটি বুথে নাকি সমস্যা বা অশান্তি হতে পারে। কিন্তু এই ধারণা তারা কোথা থেকে পাচ্ছে? এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ আদালতে সিবাল আরও বলেন, ‘একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী থাকছেনই। কিন্তু ওরা (কমিশন) এখন আরও একজনকে চাইছে। সার্কুলারে বলা হচ্ছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারী দরকার। কিন্তু কাউকে নিয়োগ করা হচ্ছে না। অনুচ্ছেদ ৩২৪ এটা বলে না যে, যা ইচ্ছে, তা-ই করা যাবে। আপনারাই সার্কুলার দেখুন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তা জারি করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসঙ্গতির আশঙ্কা থেকেই আরও এক জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী চাইছে ওরা। এটা কি রাজ্য সরকারের দিকেই আঙুল তোলা নয়?’

  • Link to this news (এই সময়)