পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে যে খবর সম্প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয়। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের মামলা খারিজ হয়নি, উল্টে বাংলার শাসকদলের আর্জিতেই স্বীকৃতি মিলেছে। শীর্ষ আদালতে শুনানির পরে সাংবাদিক বৈঠক করে গোটা বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে এ কথা বলেছেন তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিবাল।
আগামী সোমবার অর্থাৎ, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। সেখানে কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরাই থাকবেন, সেই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল। সেই মামলা খারিজ হয়ে যায়। এর পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় তৃণমূল। শনিবার বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বিশেষ বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হয়েছে। বেঞ্চ আলাদা করে কোনও নির্দেশ জারি করেনি। তবে গত ১৩ এপ্রিল অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের জারি করা নির্দেশিকার কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে, ভোট গণনার সময়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই সরকারেরই কর্মচারীরা থাকবেন। নিয়ম মেনে এ ভাবেই গণনা কর্মীদের নিয়োগ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলি অসত্য খবর পরিবেশন করছে বলে অভিযোগ তুললেন সিবাল। স্পষ্ট করে দিলেন, সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের আর্জি খারিজ হয়নি। প্রবীণ আইনজীবীর কথায়, ‘এটা ব্যতিক্রমী মামলা। তাই এখানে এলাম। মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলি এই মামলা নিয়ে অন্য ভাবে খবর পরিবেশন করছে। ওরা বলছে, আমাদের মামলা খারিজ হয়ে গিয়েছে। এটা একেবারেই ভুল। হাইকোর্টে তৃণমূল বলেছিল, সার্কুলারটাই ভুল। কিন্তু হাইকোর্ট বলেছিল, সার্কুলার ঠিকই আছে। আমরা সুপ্রিম কোর্টে সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করিনি। উল্টে আমরা বলেছি, এই সার্কুলারে যা বলা আছে, তা-ই যাতে কার্যকর করা হয়।’
সিবালের বক্তব্য, কমিশনের সার্কুলারেই ভোট গণনার সময়ে এক জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর পাশাপাশি এক জন রাজ্য সরকারি কর্মচারীকে নিয়োগের কথা বলা রয়েছে। প্রয়োজনে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বাছাই করার ক্ষেত্রে ‘ব়্য়ান্ডম সিলেকশন’ পদ্ধতির কথাও বলা আছে। এই বিষয়টিই শীর্ষ আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল। সিবাল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে যে, আমরা হাইকোর্টে সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। কিন্তু আমরা যে সেটা এখন আর করছি না, সেটাও বলা হয়েছে। আমরা বলছি, এই সার্কুলারই কার্যকর করা হোক। এ বার আমরা আশাবাদী। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে এবং রায়ের প্রতিলিপিতেও রয়েছে যে, সার্কুলারে যা লেখা রয়েছে, তার যা মূল বিষয়বস্তু, তা নজরে রেখেই পদক্ষেপ করবে। যেটা বলা হয়েছে, সেটা হলো, ভোট গণনার সময়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই সরকারেরই কর্মচারীরা থাকবেন। কিন্তু মূলধারার সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, আমাদের মামলা খারিজ হয়ে গিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ভুল। ওদের কাছে সঠিক তথ্য দেখা উচিত।’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করেছে তৃণমূল। তাতে তৃণমূলের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, গত ১৩ এপ্রিলের সার্কুলারে কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের ব্যাপারে ধারা ১-এ যা বলা আছে, সেটিকে ওই সার্কুলারেরই দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় উল্লিখিত মূল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে। ওই দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বাছাই করার ক্ষেত্রে ‘ব়্য়ান্ডম সিলেকশন’ পদ্ধতির কথাই বলা আছে। আদালতে শুনানির পরে তৃণমূল আশা করছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ভোট গণনার প্রক্রিয়া স্বাধীন, স্বচ্ছ ও ভারসাম্য বজায় রেখেই হবে। অন্য দিকে, বিজেপির বক্তব্য, ১৩ এপ্রিল যে সার্কুলার জারি করেছিল কমিশন, এ দিন তা মেনেই কাজ করার কথা বলে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।