• অগ্নিগর্ভ ফলতা! বিজেপির বিক্ষোভে এলাকা সরগরম
    আজকাল | ০২ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র আবারও উত্তপ্ত। ভোটের পর থেকেই রাজনৈতিক সংঘাত, হামলা এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে এই বিধানসভার হাসিমনগর এলাকা। বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ,  বিজেপিকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ তাঁরা হামলার মুখে পড়ছেন। শুধু মারধর নয়, খুনের হুমকি থেকে শুরু করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই শনিবার হাসিমনগরে তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটের দিন থেকেই সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভোটারদের বুথে যেতে বাধা, ভয় দেখানো, এমনকি জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার চাপ তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সেই সন্ত্রাস আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। তাঁদের দাবি, যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে মারধরও করা হচ্ছে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই হাসিমনগর এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। বিজেপি সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। ‘দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে’, ‘নিরাপত্তা দিতে হবে’—এই দাবিতে সরব হন তাঁরা। বিশেষ করে স্থানীয় এক পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে তাঁর গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এলাকায় টহল দিতে দেখা যায় জওয়ানদের। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। অনেকেই বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র এমনিতেই এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই খবরের শিরোনামে। ভোটের আগে থেকেই এই কেন্দ্রে বারবার উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে।  ভোটারদের প্রভাবিত করা, ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। দ্বিতীয় দফার  ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হলেও বিতর্ক থামেনি। বরং পুনর্নির্বাচনের দাবি ঘিরে আরও তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, ফলতার অন্তত ২৩টি বুথে পুনর্নির্বাচন করা হোক। তাঁদের অভিযোগ, ওই বুথগুলিতে ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত হয়েছে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি।
  • Link to this news (আজকাল)