• গরম নয়, মে মাসজুড়ে প্রবল বৃষ্টি, বন্যার পূর্বাভাস; কোথায় কোথায়?
    আজ তক | ০২ মে ২০২৬
  • মে মাস কাটবে গরমে নয়, বৃষ্টিতে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। এ বছর ভারতে মে মাসটি অস্বাভাবিকভাবে বৃষ্টিবহুল হতে চলেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি থাকবে পশ্চিমবঙ্গে। 

    এর মানে হল, যেসব এলাকায় সাধারণত কম বৃষ্টিপাত হয়, সেখানেও ভারী বৃষ্টিপাত হবে। তবে এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগে প্রবল বাতাসও বইবে। কিছু এলাকায় বন্যারও আশঙ্কা রয়েছে।

    মৌসম ভবনের কাছে ১৯৭১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তথ্য রয়েছে। এই তথ্য অনুসারে, উত্তর ভারত এবং সমগ্র দেশে সাধারণত মে মাসে ৬৪.১ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। এই বছর পূর্বাভাস রয়েছে যে, বৃষ্টিপাত এই স্বাভাবিক মাত্রাকে ১১০% পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা প্রায় ৭০-৭১ মিমি বা তারও বেশি হতে পারে।

    এটি অস্বাভাবিক, কারণ মে মাস সাধারণত গরমের মাস, বৃষ্টির নয়। মে মাসে সাধারণত তাপপ্রবাহ বা গরম বাতাস দেখা যায়। কিন্তু এই বছর এই ধারাটি পাল্টে যেতে চলেছে।

    বৃষ্টির প্রভাব কী হবে?
    সুখবর হল, এই বৃষ্টিপাতে তাপমাত্রা কমবে। এটি তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। এতে মাটি আর্দ্র  করবে, যা ফসলের জন্য উপকারী হবে। জলের উৎসগুলো পুনরায় পূর্ণ হবে।

    কিন্তু দুঃসংবাদ হল, বৃষ্টিপাত সর্বত্র সমান হবে না। কিছু এলাকায় কম বৃষ্টিপাত হবে, আবার অন্য কিছু এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হবে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হবে।

    কোন কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে?
    উপ-হিমালয় অঞ্চলের পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে। এখানে ৫ মে পর্যন্ত বজ্রপাত এবং প্রবল বাতাস সহ অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশেও একই ধরনের পরিস্থিতি থাকবে।

    ৩ থেকে ৬ মে-র মধ্যে পশ্চিম হিমালয়, উত্তর ভারতীয় সমভূমি এবং মধ্য ভারতের কিছু অংশে বিচ্ছিন্ন বজ্রঝড় ও বিদ্যুৎ চমকাবে। পূর্ব ভারত এবং পূর্ব উপকূলেও অনুরূপ পরিস্থিতি বিরাজ করবে।

    ঝুঁকিগুলো কী কী?
    অল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হলে অনেক শহরে বন্যা হতে পারে। মাঠের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রবল বাতাসে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালা উপড়ে যেতে পারে। বজ্রপাত জীবনহানির কারণ হতে পারে।

    এই আবহাওয়া অস্বাভাবিক কেন?
    মে মাস হল বসন্ত এবং বর্ষার মধ্যবর্তী মাস। বছরের এই সময়ে প্রায়শই অস্বাভাবিক আবহাওয়া দেখা যায়। তবে, এবার বজ্রঝড় এবং মেঘের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    জনগণের কী করণীয়?
    সব রাজ্যের আধিকারিক ও বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকার আবহাওয়ার তথ্যের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের ঝুঁকি রয়েছে। বন্যা প্রতিরোধে বাড়ির জল নিষ্কাশন পথ পরিষ্কার রাখুন। কৃষকদের উচিত তাদের ফসল রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করা।
  • Link to this news (আজ তক)