লাইফ জ্যাকেট তখনও বাঁধা। জলে ভাসছেন এক মহিলা। চোখ বন্ধ। যেন ঘুমিয়ে রয়েছেন। কিন্তু চার বছরের ছেলেকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন বুকে। মৃত্যুও যেন আলাদা করতে পারেনি দু’জনকে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের বরগী বাঁধে ক্রুজ়ডুবির পরে এই ছবিই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটদুনিয়া মর্মাহত। তাঁরা বলছেন, ‘শত হলেও মা তো।’ কিন্তু শনিবার এই ছবি ফেক বলে জানিয়ে দিল জবলপুর জেলা প্রশাসন।
জবলপুরের অন্যতম আকর্ষণ বরগী বাঁধ। বাঁধের জলে নৌকা সফরের ব্যবস্থা রয়েছে। ছোট ছোট ক্রুজ়ে ঘোরেন অনেকে। গত বৃহস্পতিবারও ক্রুজ়ে চেপেই ঘুরছিলেন পর্যটকরা। আচমকাই ঝড় ওঠে। সঙ্গে বড় বড় ঢেউ। ইঞ্জিনে জল ঢুকে যায়। আর সামলাতে পারেননি চালক। একদিকে হেলে যায় ক্রুজ়। ধীরে ধীরে তলিয়ে যায় বাঁধের জলে। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। একের পর এক দেহ উদ্ধার করেন আগ্রার ডাইভিং টিম।
তখনই একটি ছবি ছড়াতে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বছর চারেকের সন্তানকে বুকে আঁকড়ে শুয়ে রয়েছেন এক মহিলা। দাবি করা হচ্ছিল, স্বামী আর ছেলেমেয়ের সঙ্গে দিল্লি থেকে বেড়াতে এসেছিলেন মহিলা। ক্রুজ়ডুবির সময়ে বাবা-মেয়ে কোনও রকমে প্রাণে বাঁচলেও মা-ছেলে ডুবে যান। তাঁদেরই উদ্ধার করে ডাইভিং টিম। ওই মহিলা এতটাই শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন সন্তানকে উদ্ধারের পরেও নাকি ছেলেকে আলাদা করা যাচ্ছিল না। কিন্তু পুরো বিষয়টাই ভুয়ো বলে দাবি করল জবলপুর জেলা প্রশাসন।
এ দিন জবলপুরের কালেক্টর অফিস থেকে X হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘ক্রুজ় দুর্ঘটনায় এমন কিছু ঘটেনি। হয় এই ছবি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স দিয়ে তৈরি। না হলে অন্য কোনও ঘটনার। বরগী বাঁধে দুর্ঘটনার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।’ মানুষের আবেগকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্যই ভুয়ো ছবি ছড়ানো হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ক্রুজ়ে জল ঢোকার পরেই লাইফ জ্যাকেট বের করা হচ্ছে। বেশ কিছু লাইফ জ্যাকেট খোলেনি। এতে আরও ভয় পেয়ে যান যাত্রীরা। নিহতদের পরিবারের অনেকরই অভিযোগ, ‘খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ক্রুজ় নিয়ে যাচ্ছিলেন চালক।’ সবাইকে লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সওয়া ৬টা নাগাদ ডুবে যায় ক্রুজ়টি। এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২৮ জনকে। ৪ জনের কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। পরেই মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।