ছাদনাতলায় দাঁড়িয়ে বর-কনে। দু'জনের হাতেই মালা। পাশেই মন্ত্রোচ্চারণ করছেন পুরোহিত। যজ্ঞের আগুন জ্বলছে। অতিথিরা হাসি মুখে তাকিয়ে রয়েছেন নবদম্পতির দিকে। পুরোহিত কনেকে বললেন, ‘নাও, এ বার মালা পরিয়ে দাও।’ ঠিক তখনই বিপত্তি। বরের বদলে দৌড়ে গিয়ে প্রেমিকের গলায় মালা পরিয়ে দিলেন যুবতী। মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলার এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় বিয়ে। বরকে নিয়ে ফিরে যান বরযাত্রীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ এপ্রিল রাতে। তবে তার ভিডিয়ো ফুটেজ সামনে এসেছে শুক্রবার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উমরেথ গ্রামে বসেছিল বিয়ের আসর। সন্ধ্যা নাগাদ পারসিয়া থেকে এসে পৌঁছন বরযাত্রীরা। সানাই বেজে ওঠে। কিছুক্ষণ পরে শুরু হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। সব ঠিকঠাকই চলছিল। অতিথিরাও এসে গিয়েছিলেন। ছাদনাতলায় বর-কনে এসে দাঁড়াতেই মন্ত্র পড়তে শুরু করেন পুরোহিত। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, লাল বেনারসি পরেছেন কনে। বরের পরনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি। ছাদনাতলায় আসার পরেই মুখ নীচু করে নেন কনে।
বরের দিকে যেন তাকানোর ইচ্ছা নেই তাঁর। নতুন কনে। লজ্জায় হয়তো বরের দিকে তাকাতে পারছেন না। এমনটাই ভেবেছিলেন অতিথিরা। কিন্তু মালাবদলের সময়েই সামনে আসে আসল রহস্য। ছাদনাতলায় তখন দু’জনের হাতেই বরমালা। পুরোহিত বললেন, ‘এ বার বরের গলায় মালা পরিয়ে দাও।’ তখনই ছাদনাতলা থেকে নেমে দৌড়তে শুরু করলেন কনে।
কিছুই বুঝতে পারেননি অতিথিরা। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। সম্বিত ফিরতে কনেকে ধরতে দৌড়ন কয়েক জন। কনে ততক্ষণে অতিথিদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের গলায় মালা পরিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে হুলস্থুল বেঁধে যায়। ওই যুবককে ধরে বেধড়ক মারতে শুরু করেন কনের পরিবারের লোকজন। শেষে তাঁকে বের করে দেওয়া হয় বিয়েবাড়ি থেকে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের বসে বিয়ের আসর। কিন্তু বর সাফ জানিয়ে দেন, এই বিয়ে তিনি করবেন না। বেঁকে বসেন বরযাত্রীরাও। কনের পরিবার অনেক বুঝিয়েও আর তাঁদের রাজি করাতে পারেননি। শেষে ভেস্তে যায় বিয়ে। বরকে নিয়ে ফিরে যান বরযাত্রীরা। উমরেথ থানার ইনচার্জ বিজয় ঠাকুর বলেন, ‘বর-কনে দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক। এখানে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। বরপক্ষ কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে তারা লিখিত ভাবে জানিয়েছে, কনের পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ। এর জন্যে কনের কোনও ক্ষতি হলে তার দায় বরপক্ষ নেবে না।’