নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার ভোট গণনার দিন প্রত্যেক কেন্দ্রে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিজেপি নানা চক্রান্ত করতে পারে। তাই গণনা কেন্দ্রে যে তৃণমূলের সৈনিকরা থাকবেন, তাঁরা সব দিকে নজর রাখবেন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই গণনা কেন্দ্রে যে সমস্ত তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টরা থাকবেন, তাঁদের করণীয় কী হবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট বার্তা দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিকেল চারটের সময় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক ডেকেছেন তিনি। এই বৈঠকে কাউন্টিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকবেন। আর থাকবেন দলীয় বেশ কয়েকজন পদাধিকারী।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগে স্পষ্ট করে বলে হয়েছে, গণনা কেন্দ্রে যাঁরা যাবেন, তাঁরা তাঁদের কর্তব্য দায়িত্বের সঙ্গে পালন করবেন। কোনোরকম শিথিলতা যেন না আসে। গণনা শুরু হওয়ার এক ঘন্টা আগেই সেই কেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে। সকাল আটটা থেকে বেলা বারোটা পর্যন্ত সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সময়টাই প্রতি মুহূর্তে নজর রাখতে হবে। পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম কাউন্টিংয়ে তথ্য খাতায় নথিভুক্ত করতে হবে। গণনার টেবিল থেকে ওঠার হলে অন্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব বুঝিয়ে তবে যাওয়া যাবে।
গত নভেম্বর মাসে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়। সেই সময় থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে তৃণমূল। ভোটরক্ষার শিবির করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দলের কর্মীরা। ফলে সাধারণ মানুষ যে রায় দিয়েছেন তা তৃণমূলের পক্ষেই আসবে বলে স্থির বিশ্বাস নেতা-কর্মীদের। তাই গণনার দিন কেউ যাতে ইভিএমে কারচুপি করতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর তৃণমূলের। এটা দেখা গিয়েছে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্ট্রং রুমে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন। চার ঘণ্টা থেকে পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর বার্তা, ‘আমরা ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসছি। বিজেপি হারছে বুঝে ইভিএমে কারসাজি করতে পারে।’
অন্যদিকে এর আগে গত দু’মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করে তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, ‘২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বাংলাকে রক্ষা করার ভোট। এই ভোট হল প্রতিবাদের ভোট, প্রতিশোধের ভোট, বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার ভোট। তৃণমূলের প্রতি সাধারণ মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত ও উন্মাদনা দেখা গিয়েছে তাতে ২৩০ আসন পার করে যাবে জোড়াফুল।’