ভোটের দিন দফায় দফায় অশান্ত ফলতায় পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগামী ২১ মে অর্থাৎ ফলপ্রকাশের তিন সপ্তাহ পর গোটা ফলতা বিধানসভায় ফের ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ৪ তারিখ রাজ্যের ২৯৩ আসনের ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ হবে। স্থগিত থাকবে ফলতার ফলাফল। ২১ তারিখ এই বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫ টি বুথে ফের ভোটগ্রহণের পর গণনা হবে ২৪ মে। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত কার্যত নজিরবিহীন। গোটা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন সাম্প্রতিক অতীতে হয়নি।
গত ২৯ মে, দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। ওইদিন একাধিক বুথ থেকে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ইভিএমে বিজেপির প্রতীক টেপ দিয়ে আটকানো, কোথাও অল্প সময়ের জন্য হলেও বুথে ভিড়, বুথের বাইরে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের কাছে। এমনকী অভিযোগ উঠেছে খোদ তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধেও। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত স্ক্রুটিনি করে কমিশনে এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ জানান। সেইমতো রিপোর্ট পাঠানো হয় কমিশনের দপ্তরে। রাত পর্যন্ত এনিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন। শনিবার রাত ৯টার পর রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, ফলতার ২৮৫টি বুথেই ফের ভোট নেওয়া হবে আগামী ২১ মে। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ২৪ মে এই কেন্দ্রের গণনা ও ফলপ্রকাশ।
কিন্তু ফলপ্রকাশের পর কি কোন কেন্দ্রে ভোট হতে পারে? কমিশনের বিধি ঠিক কী? জানা যাচ্ছে, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৮ এ ধারা অনুযায়ী, যে বিধানসভায় অনেক বুথে ভোটের দিন বিপুল গন্ডগোল হয়েছে, একাধিক অসংগতি দেখা গিয়েছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন গোটা বিধানসভায় ফের নতুন করে নির্বাচন করাতে পারে। এবং সেই অনুযায়ী আলাদা দিনে নতুন করে গণনা ও ফলপ্রকাশ হবে। এতে কোনও বাধা নেই। তবে এই আইন প্রয়োগ সম্ভবত সাম্প্রতিককালে এবারই প্রথম।
আসলে বঙ্গে রক্তপাতহীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর কমিশন। প্রথম লক্ষ্য পূরণ হয়েছে অর্থাৎ ভোটের মাঝে রাজনৈতিক সংঘর্ষে কোনও মৃত্যু ঘটেনি। বুথেও কোনও গন্ডগোল হয়নি। ব্যতিক্রম একমাত্র ফলতা। তাই ১০০ শতাংশ স্বচ্ছভাবে নির্বাচন পর্ব মেটাতে এই বিধানসভায় ফের ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন।