• এক বছরে রেকর্ড সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, পাল্লা দিয়ে কমল গ্রেপ্তারির সংখ্যা, বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ ইডি-র
    এই সময় | ০৩ মে ২০২৬
  • আর্থিক তছরূপের মামলায় গত অর্থবর্ষে বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। টাকার অঙ্কে ৮১ হাজার কোটিরও বেশি। যা এককথায় রেকর্ড। তবে গ্রেপ্তারির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমেছে। শুক্রবার বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইডি। সেখান থেকেই জানা গিয়েছে এই পরিসংখ্যান।

    রিপোর্ট বলা হয়েছে, ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রিভেনশনস অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টে দেশ জুড়ে ২ হাজার ৮৯২টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইডি। কিন্তু গ্রেপ্তার করা হয়েছে মাত্র ১৫৬ জনকে। তার আগের অর্থবর্ষে (২০২৪-২৫) ২১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। কেন কমছে গ্রেপ্তারির সংখ্যা? ইডির বক্তব্য, বর্তমানে নির্দিষ্ট প্রমাণের উপর ভিত্তি করে তদন্ত চালানোর ফলেই গ্রেপ্তারির সংখ্যা কম।

    শুধু তল্লাশি নয়। ইডি এখন আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ, ব্লকচেইন অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সির গতিপথ ট্র্যাক করা এবং রিয়েল-টাইমে কর্পোরেট ও সম্পত্তির রেকর্ডও যাচাই করছে। তার কারণেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড ৮১২টি চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে ইডি। আগের অর্থবর্ষে এই সংখ্যাটি ছিল ৪৫৭।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতারিতদের দ্বিগুণের বেশি সম্পদ ফেরত দিয়েছে ইডি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তারা ২,৬৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ফেরত দিয়েছে। যেখানে আগের বছরে এই পরিমাণ ছিল ১৫,২৬৩ কোটি টাকা। অর্থবর্ষের শুরুতেই ১৫,০০০ কোটি টাকার সম্পদ ফেরানোর লক্ষ্য নিয়েছিলেন ইডি-র ডিরেক্টর রাহুল নবীন। চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতেও বিপুল সাফল্য মিলেছে বলে বার্ষিক রিপোর্টে দাবি করেছে ইডি। এই সব ১৫,৫৮২ কোটি টাকার সম্পত্তি প্রতারিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

    অর্থপাচার মামলার তদন্ত এখন আর শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও তথ্য আদানপ্রদান অনেকটাই বেড়েছে বলেও উঠে এসেছে বার্ষিক রিপোর্টে। লেটারস রগেটরি (LR) ও মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (MLAT)-এর মাধ্যমে বিদেশি তদন্ত সংস্থাগুলিকেও অনুরোধ পাঠাচ্ছে ইডি। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৫৩টি এমন অনুরোধ বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুরোধ গিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (৬৯টি)। তারপর রয়েছে সিঙ্গাপুর (৫৫), ব্রিটেন (৩৯), হংকং (৩৬), আমেরিকা (২৬), সুইজারল্যান্ড (২৩) এবং মরিশাস (১৫)। অন্য দিকে, বিদেশ থেকেও ইডি-র কাছে মোট ২৪৬টি অনুরোধ এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে ব্রিটেন (৭৯), তারপর সিঙ্গাপুর (৩৩), আমেরিকা (৩২) এবং ফ্রান্স (৭) থেকে।

  • Link to this news (এই সময়)