মহারাষ্ট্রের একটি শপিং মলে হঠাৎ লিফট বিকল হয়ে ঘটে ভয়াবহ কাণ্ড। ভিতরে আটকে পড়েন ছয় জন। মারাত্মক দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত উদ্ধার পেতে লিফটের কাচ ভেঙে ফেলেন তাঁরা।
ঘটনাটি ঘটেছে নাগপুরের সীতাবুলদি এলাকার ফরচুন মলে। শনিবার আচমকা একটি লিফট চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায়। মলে শপিং করতে আসা কয়েক জন তাতে আটকে পড়েন। বিষয়টি কয়েক মিনিটের জন্য স্থায়ী হলেও তাতেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। লিফটের মধ্যে দম বন্ধ করা অবস্থা তৈরি হয়।
প্রথমে বিষয়টি সামান্য যান্ত্রিক সমস্যা বলে মনে হলেও, মিনিট পেরোতে না পেরোতেই পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিতে শুরু করে। লিফটের ভিতরে কোনও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে থাকেন আটকে পড়া ব্যক্তিরা। বন্ধ লিফটের মধ্যে অক্সিজেনের ঘাটতি, অন্ধকার আর অনিশ্চয়তার চাপ—সব মিলিয়ে আতঙ্ক চরমে পৌঁছে যায়।
লিফটের ভিতর থেকে বারবার মল কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হলেও, অভিযোগ অনুযায়ী দ্রুত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সময় গড়াতে থাকায় ভিতরে থাকা মানুষদের অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। কেউ কেউ জানান, শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে উঠেছিল এবং আতঙ্কে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। আটকে পড়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা অনেকক্ষণ ধরে ভেতরে আটকে ছিলাম। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল এ বার মরে যাব।’
এদিকে বাইরে উপস্থিত জনতার বিষয়টি বুঝতে পেরে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের দুরবস্থা দেখে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও যখন দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি, তখন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত লিফটের কাচ ভেঙে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি। তবে এই পুরো ঘটনাটি যেন স্পষ্ট করে দিল, একটি ছোট যান্ত্রিক ত্রুটি কীভাবে মুহূর্তে বড় বিপদের রূপ নিতে পারে, যদি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া না দেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিফটের মতো অত্যাবশ্যক পরিষেবায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।