নয়াদিল্লি: ফেরার মাফিয়া দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী মহম্মদ সেলিম ডোলাকে সম্প্রতি তুরস্ক থেকে ভারতে প্রত্যর্পিত করা হয়েছে। আদতে মুম্বইয়ের ডোংরির বাসিন্দা ডোলার বিরুদ্ধে ভারতের অনুরোধে ২০২৪ সালে ইন্টারপোল রেড কর্নার নোটিস ইস্যু করেছিল। সেই নোটিসের ভিত্তিতেই তুরস্কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৯ বছর বয়সি দাউদ ঘনিষ্ঠকে। মাদক পাচারের অসংখ্য মামলায় জড়িত ডোলার নাম রয়েছে ভারতের ওয়ান্টেড তালিকায়। ডোলার হদিশ পেতে বহু বছর ধরেই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। যদিও সেই কাজ সহজ ছিল না। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতোই কঠিন ছিল এই কাজ। ভারতীয় এজেন্সিগুলির হাতে গ্রেপ্তারির ভয়ে ডোলা দেশ থেকে পালিয়ে তুরস্কে চলে যায়। সেখানে গিয়ে ইস্তানবুলে অজ্ঞাতবাসে দিন কাটাতে শুরু করে। গা-ঢাকা দেওয়া ডোলা প্রায় দেড় বছর তার গোপন ডেরার বাইরে পা দেয়নি। এমনকি কারও সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ পর্যন্ত রাখত না। কিন্তু তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সামান্য একটি ভুল করে ফেলে ডোলা। কিছুদিন আগে ইস্তানবুলের সেই গোপন ডেরার ঠিকানায় একটি ক্যুরিয়ার ডেলিভারির অর্ডার দেয় এই ওয়ান্টেড মাদক পাচারকারী। ওই অর্ডারই কাল হয় দাউদ ঘনিষ্ঠ অপরাধীর। সেই ট্রানজ্যাকশনের সূত্রেই ইন্টারপোলের সহায়তায় ডোলার গোপন ডেরার হদিশ পেয়ে যায় ওঁত পেতে থাকা ভারতীয় এজেন্সিগুলি। ভারতীয় আধিকারিকরা ইস্তানবুল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেই ডেরায় হানা দিয়ে ডোলাকে গ্রেপ্তার করে ইস্তানবুল পুলিশ। গত মঙ্গলবার তাকে তুরস্ক থেকে দিল্লিতে আনা হয়। ইস্তানবুলে ডোলার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মোট তিনটি পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে দু’টি ভারতীয় ও একটি বুলগেরিয়ার। সেই বুলগেরিয়ার পাসপোর্টেই ‘হামজা’ নামে তুরস্কে বসবাস করছিল ডোলা। তার বুলগেরিয়ার সেই পাসপোর্ট আসল, নাকি ভুয়ো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের একটি আদালত ডোলাকে ৮ মে পর্যন্ত নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর হেফাজতে পাঠিয়েছে।