• ফল ঘোষণার পরই বাড়বে গ্যাসের দাম? শঙ্কা পেট্রল-ডিজেল নিয়েও, মধ্যবিত্তের দুর্ভোগ অব্যাহত
    বর্তমান | ০৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সদ্য ৯৯৪ টাকা দাম বেড়েছে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের। এবার পালা রান্নার গ্যাস, পেট্রল-ডিজেলের! দাম বাড়াতেই হবে—কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের কাছে তেল উৎপাদক সংস্থাগুলির দাবি অন্তত সেরকমই। জানা যাচ্ছে, সিলিন্ডার পিছু রান্নার গ্যাসের দাম বাড়বে একধাক্কায় ৪০-৫০ টাকা। আর পেট্রল-ডিজেল? লিটার প্রতি ৪-৫ টাকা! আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দাম বাড়বে বলে সরকারি সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার ছিল, তখন থেকে দেশে পেট্রল-ডিজেল, এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কার্যত এক রয়েছে। মাঝে শুধু মার্চ মাসে রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বৃদ্ধি ছাড়া। এই স্থিতাবস্থার আসল কারণ, ভোটের দায়! পাঁচ রাজ্যের ভোট প্রচারের মধ্যে মোদি সরকার প্রাণপণে বার্তা দিয়েছে যে, তারা সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা চাপাবে না। তাই পেট্রপণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। ভোট শেষ। ফলপ্রকাশ আগামী কাল। তারপরই পেট্রল-ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যদিও এ ঩বিষয়ে কেন্দ্র কোনো কথাই বলেনি। কিন্তু পেট্রলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট আভাস দিচ্ছে যে, পেট্রপণ্যের দাম অনেকদিন বাড়ানো হয়নি। এবার হতে পারে। 

    এলপিজি নিয়ে সরকার যে চাপে, তার ইঙ্গিত মিলেছে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি করায়। কিন্তু ভোটের দায়ে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে তার প্রভাব পড়েনি। এবার সেই দায় নেই। অতএব দাম বৃদ্ধি এখন সময়ের অপেক্ষা। ফরমুলা একই। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হলেও ভারতের পেট্রপণ্যের দাম বাড়েনি। তখনও বলা হয়েছিল, সাধারণ মানুষের উপর চাপ দিতে চাইছে না কেন্দ্র। আসলে সেই সময় উত্তরপ্রদেশে চলছিল ভোটপর্ব। যোগীরাজ্যে ফলাফল প্রকাশের পরই তেল উৎপাদন সংস্থাগুলি দাম বাড়াতে শুরু করে। এবার পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। তার কিছুদিনের মধ্যেই এলপিজির হাহাকার শুরু হয় দেশজুড়ে। পেট্রল-ডিজেলের আমদানিও ধাক্কা খায়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটপর্ব চলায় পেট্রপণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। ভোট মিটেছে। এই বছর আর কোথাও নির্বাচন নেই। অতএব আর কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই সরকারের।

    তেল উৎপাদন সংস্থাগুলির দাবি, প্রতিদিন বিপুল লোকসানের ভার বহন করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম এখন ব্যারেল পিছু ১১৬ ডলার। অতএব দাম বাড়াতেই হবে। যদিও প্রশ্ন হল, যখন অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলারে পর্যন্ত নেমে এসেছিল এবং বহু মাস ধরেই সেই দামই ছিল, তখন দেশের মানুষকে কিন্তু সুরাহা দেয়নি মোদি সরকার। অথচ তেল সংস্থাগুলি রাশিয়ার সস্তা তেল ক্রয় করে বিপুল সাশ্রয় করেছে। এটাই এখন মোদি সরকারের মডেল। অতএব বিপুল মূল্যবৃদ্ধির আগুন ঢুকতে চলেছে সংসারে। কারণ, পেট্রপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সব নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়!
  • Link to this news (বর্তমান)