আগামী সপ্তাহ থেকে পাহাড়ে ঢল নামার আশা, বরফের টানে সিকিমমুখী পর্যটকরা, বন্ধ লাচেন
বর্তমান | ০৩ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ছাংগুর পথে বরফ। শ্বেতশুভ্র ইয়ামথাং ভ্যালি কিংবা জিরো পয়েন্ট। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আরও কয়েকদিন সিকিমের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আর এরই জেরে ঢল নামছে পর্যটকদের। কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলিতে এখন ট্যুরিস্টের ভালোই ভিড়। তবে দার্জিলিংয়ের তুলনায় সিকিমমুখী পর্যটকের সংখ্যা বেশি। বরফ দেখার আশায় সেখানে যাচ্ছেন কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বহু পর্যটক। লাচেন বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে লাচুং। ফলে অনেকেই পছন্দের ডেস্টিনেশন হিসেবে বেছে নিচ্ছেন উত্তর সিকিম। উত্তরবঙ্গের ট্যুর অপারেটররা বলছেন, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দার্জিলিং পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল নামার আশা রয়েছে। তুলনায় পর্যটক টানতে পিছিয়ে রয়েছে ডুয়ার্স। এখনও পর্যন্ত হাতেগোনা কিছু পর্যটক গোরুমারা কিংবা জলদাপাড়ায় রয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় সিকিমের আবহাওয়া আধিকারিক গোপীনাথ রাহা বলেন, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে আগামী কয়েকদিন তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে সিকিমের উঁচু পাহাড়ি এলাকায়। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ছাংগু থেকে নাথুলা যাওয়ার পথে প্রচুর বরফ। ফলে এসময় যাঁরা সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন, তাঁরা প্রাণভরে বরফ উপভোগ করতে পারবেন। লাচেন বন্ধ থাকলেও লাচুং খোলা রয়েছে। সেখানেও বহু পর্যটক যাচ্ছেন। ইয়ামথাং ভ্যালি, জিরো পয়েন্টে বরফ মিলছে। তবে রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট হয়ে তবেই পর্যটকদের সিকিমে বেড়ানোর পরিকল্পনা করতে বলা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের আহ্বায়ক রাজ বসুর দাবি, ১৫ এপ্রিল থেকে দার্জিলিং ও সিকিমে সামার ট্যুরিজমের মরশুম শুরু হয়ে যায়। এবার ভোটের কারণে এখনও দার্জিলিংয়ে পর্যটন জমেনি। তবে ধীরে ধীরে বুকিং বাড়ছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দার্জিলিংয়ে পর্যটকদের ঢল নামার আশা। এখন বেশিরভাগ পর্যটক সিকিমেই যাচ্ছেন।
এসআইআর ও ভোটের কারণে গত কয়েকমাস ধরে ডুয়ার্সের পর্যটন মার খাচ্ছে বলে দাবি লাটাগুড়ি হোটেল অ্যান্ড রিসর্ট ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেবের। তিনি বলেন, ১৫ জুনের পর থেকে তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায় ডুয়ার্সের জঙ্গল। তার আগে পর্যটকদের ঢল নামে। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত তা দেখা যায়নি। হাতেগোনা কিছু পর্যটক রয়েছেন লাটাগুড়িতে। কলকাতা থেকে পর্যটকরা এলেও তাঁদের বেশিরভাগই পাহাড়মুখী। তাও আবার সিকিমকেই বেছে নিচ্ছেন ওইসব পর্যটকের বড় অংশ।
দার্জিলিংয়ের লোয়ার টুংসুং রোডের হোটেল ব্যবসায়ী জীবন নন্দী বলেন, শৈলশহরে এখনও পর্যটকের সেভাবে দেখা নেই। সবই ১৫ মে’র পর বুকিং। ফলে পর্যটক টানতে রুম ভাড়ায় ছাড় দিচ্ছে অনেক হোটেলই। পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বসুর অবশ্য দাবি, দার্জিলিং-কালিম্পং পাহাড়ে সামার ট্যুরিজমের বুকিং যেখানে ৩৫ শতাংশে আটকে ছিল, তা বেড়ে ৬৫ শতাংশ হয়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ছবিটা বদলাবে।