ভোটের কাজে ব্যস্ত আধিকারিকরা, গৌড় ও মালিয়ান দিঘি থেকে ফের মাছ চুরি
বর্তমান | ০৩ মে ২০২৬
সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: ভোটের কাজে ব্যস্ত প্রশাসনের আধিকারিকরা। তার মাঝে নজরদারির অভাবে হরিরামপুরের গৌড়দিঘি থেকে দেদারে মাছ চুরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। এক মাস আগে এনিয়ে অভিযোগ এবং গ্রেপ্তারি হলেও মাছ চুরি থামেনি। নির্বাচনি কাজে পুলিশ ও প্রশাসন ব্যস্ত থাকায় রাতের অন্ধকারে দিঘি থেকে মাছ তুলে ট্রাকে ট্রাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সবকিছু প্রকাশ্যে ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের। প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে হরিরামপুরে।
একমাস আগে হরিরামপুর ব্লক কংগ্রেস সরকারি পুকুরে অবৈধভাবে মাছ চাষ নিয়ে সরব হয়। অভিযোগ, বৈরাঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন এবং জেলা প্রশাসনের জলকর কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকা গৌড় ও মালিয়ান দিঘিতে টেন্ডার ছাড়াই চলছে মাছ চাষ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েক বছর ধরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চলছে। এবিষয়ে জেলা ও ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের একাংশ স্থানীয় সহযোগিতায় বৃহৎ পরিসরে মাছ চাষ করছে। দুই দিঘি থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হলেও জেলা ভূমি সংস্কার দপ্তরের কোষাগারে তার কোনো প্রতিফলন নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন দুই দিঘিতে মাছ চাষ বন্ধের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
হরিরামপুর ব্লক ভূমি সংস্কার আধিকারিক দীপঙ্কর রায় জানান, গৌড়দিঘি, মালিয়ান দিঘি সহ একাধিক পুকুরে মাছ চাষে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আগে যারা মাছ ধরছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। দীপঙ্কর বলেন, বর্তমানে আমরা নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত। গণনা শেষ হলে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশকেও জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে হরিরামপুরের কংগ্রেস নেতা সোনা পাল বলেন, গৌড়দিঘি ও মালিয়ান দিঘির মাছ চুরির বিরুদ্ধে আবার আন্দোলনে নামব। আপাতত আমরা নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হরিরামপুরের বিজেপি প্রার্থী দেবব্রত মজুমদারও। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেছেন, অন্যায়ভাবে পুকুরে মাছ চাষ কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জেলাশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।