সংবাদদাতা, মানকর: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আউশগ্রাম বামফ্রন্টের অজেয় দুর্গ হিসাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু, পরিবর্তনের সবুজ ঝড়ে আউশগ্রাম এখন তৃণমূল কংগ্রেসের গড়। গত বিধানসভার মতো এবারও সবুজ হবে আউশগ্রাম, এমনটাই মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। তাঁদের দাবি, একদিকে বিজেপির প্রার্থীকে ঘিরে নিজেদের মধ্যে অসন্তোষ। অন্যদিকে, বিরোধীদলগুলির নিজেদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগিতে শেষ হাসি হাসবে তৃণমূল। যদিও বিজেপি সহ অন্য দলগুলি নিজেদের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনেই গত বিধানসভা ভোটে জিতেছিল তৃণমূল। আউশগ্রামের ব্যবধান ছিল চোখে পড়ার মতো। এবার সেই ব্যবধান আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তৃণমূল সমর্থকরা। আউশগ্রামে এবার প্রার্থী বদলেছে তৃণমূল। অভেদানন্দ থান্ডারের জায়গায় লড়ছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। শান্ত, লড়াকু, মার্জিত কথা বলার জন্য তাঁর সুনাম রয়েছে। প্রচারের সময় ব্যাপক সাড়াও পেয়েছেন তিনি। তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ভোটে পড়বে বলে মনে করেন দলীয় নেতা সুব্রত শ্যাম। তিনি বলেন, জয়ের বিষয়ে আমরা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। মার্জিন গতবারের থেকে বাড়বে। তাছাড়া বামের ভোট তলানিতে। বিজেপি মানুষকে ভুল বুঝিয়ে যে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, তার জবাব মানুষ ইভিএমে দিয়েছে।
তৃণমূল নেতা কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, এখানে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছে। বাংলার প্রতি কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনা, এসআইআরে ভোগান্তির বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছে।
আউশগ্রামে গতবারের প্রার্থী কলিতা মাজির উপরেই ভরসা রেখেছে বিজেপি। পরিচারিকার কাজ করা কলিতার প্রশংসা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু, গতবার তিনি হেরে গিয়েছিলেন। এবার তাঁকে প্রার্থী করায় দলেরই একাংশ অখুশি ছিল। উপরের মহলকে জানিয়েও অবশ্য কাজ হয়নি। ভোটে লড়েছেন তিনি। তাঁর জয়ের বিষয়ে বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, আমাদের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিয়েছে।
সিপিএম এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী চঞ্চল মাঝিকে। এলাকায় লাল ফিরবে বলে মনে করছেন সিপিএম কর্মীরা। দলীয় নেতা সানোয়ার হাসান বলেন, মানুষ নিজের ভোট নিজে দিয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপির অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ বামকে বেছে নেবে। আউশগ্রামে ফের লাল পতাকা উড়বে।
এই বিধানসভা কেন্দ্রে কিছুটা দেরিতে লড়াই শুরু করেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী তাপস বড়াল। এবারে ভাল ফল হবে বলে মনে করছেন কংগ্রেস কর্মীরা। এক কংগ্রেস কর্মী বলেন, দীর্ঘদিন জোটের রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা প্রতীকবিহীন ছিলাম। এবারে কংগ্রেস সমর্থকরা নিজেদের চিহ্নে ভোট দিয়েছেন। আউশগ্রামে ভাল ফলাফলের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।