• জম্মুতে কর্মরত মল্লারপুরের অগ্নিবীরের রহস্যমৃত্যু, চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ০৩ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জম্মুতে কর্মরত অবস্থায় মল্লারপুরের সোঁজ গ্রামের ‘অগ্নিবীর’ অনুপম মণ্ডলের রহস্যমৃত্যু হয়েছে। কৃষক ছেলে বিএ দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন ২০২৩ সালের মার্চ মাসে দেশ সেবার স্বপ্ন নিয়ে অগ্নিবীরের চাকরিতে যোগ দেন অনুপম। সব কিছু ভালই চলছিল। শুক্রবার সকালে হঠাৎই তাঁর মৃত্যু সংবাদ আসতেই শোকে পাথর হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। গ্রামের সদাহাস্য বীর যুবকের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের দাবি, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ ফোন করে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে অনুপম নিজের সার্ভিস বন্দুক থেকে নিজের গলায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। যদিও ওই অগ্নিবীরের পরিবার এই আত্মহত্যার তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। মৃতের দিদি রুপা মণ্ডল বলেন, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ৮:৩০ এর মধ্যে ভাই ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তাঁর গলার স্বর বা কথা বলার ধরনে কোনো অস্বাভাবিকতা বা মানসিক অবসাদের লক্ষণ ছিল না। কথা চলাকালীনই অন্য এক সহকর্মী তাকে খাওয়ার জন্য ডাকেন। অনুপম অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে বলেন, ‘খেয়ে নিই, না হলে সকলের খাওয়া হয়ে যাবে’। কেউ যদি আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবে, তবে তার সাধারণ খাদ্যাভ্যাস বা সময়মতো খাওয়ার ব্যাপারে এমন আগ্রহ থাকার কথা নয়। মা ডিউটির কথা জিজ্ঞাসা করলে ভাই জানিয়েছিল, ‘ডিউটির কোনো ঠিক নেই।’ অর্থাৎ কাজের চাপের মধ্যেই ভাই ছিল। মৃত জওয়ানের মামা সমীরণ মণ্ডল বলেন, অনুপম কোনোভাবেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো ছেলে ছিল না। বাড়িতে শেষবার কথা বলার সময়ও তাকে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তাঁর মতে, অনুপম নিজেকে কীভাবে পরপর দু’টি গুলি চালাবে? কয়েক ঘণ্টা আগেই যে ছেলে স্বাভাবিকভাবে খাওয়ার কথা এবং ডিউটির কথা বলছিল, সে হঠাৎ ভোরের আলো ফোটার আগে আত্মহত্যা করবে কেন? এর পিছনে অন্য কোনো রহস্য থাকতে পারে। শুক্রবার সকালেই মৃত অনুপমের দুই খুড়তুতো ভাই দিল্লি হয়ে জম্মুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। আজ, রবিবার জওয়ানের নিথর দেহ এসে পৌঁছবে গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সরস্বতী পুজোয় বাড়ি এসেছিলেন অনুপম। সেই আনন্দময় মুহূর্তগুলিই এখন পরিবারের কাছে শেষ স্মৃতি হয়ে রইল। অনুপম বাড়িতে বলেছিলেন, দুর্গাপুজোয় বাড়ি ফিরবেন। ভাইয়ের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন দিদি। কিন্তু, উৎসবের আগেই সব শেষ হয়ে গেল। পরিবারের এই কঠিন সময়ে গ্রামের মানুষ এবং এলাকাবাসী তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। শোকস্তব্ধ সোঁজগ্রাম এখন শুধু অগ্নিবীর জওয়ানের মরদেহের অপেক্ষায়।
  • Link to this news (বর্তমান)