নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: দ্বিতীয় দফায় আরামবাগ মহকুমার চার বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হয়। নির্বাচনের দিন এখানকার বুথগুলিতে সকাল থেকেই মহিলাদের লম্বা লাইন ছিল। এই মহিলা ভোটই এবার মহকুমার চারকেন্দ্রে বড়ো ফ্যাক্টর হতে চলে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের দাবি, মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তাই তাঁরা ঢেলে ভোট দিয়েছেন। যদিও গেরুয়া শিবিরের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। তাই তাঁরা এবার বিজেপির প্রতিই আস্থা রেখেছেন।
খানাকুলের তৃণমূল প্রার্থী পলাশ রায় বলেন, মহিলাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে বেশি প্রকল্প করেছেন। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী ছাড়াও সবচেয়ে জনপ্ৰিয় প্রকল্প রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। তাছাড়া মহিলাদের সম্মান দিয়েছে আমাদের সরকারই। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হয়েছে পরিবারের মহিলা সদস্যকে মাথায় রেখেই। স্বনির্ভর করতেও ঋণের ব্যবস্থা করেছেন। এবারের ভোটেও মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের জন্যই বিশেষ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন। বিগত দিনে মহিলারা তৃণমূলকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ দিয়েছেন। আমরা বুথ ভিত্তিক রিপোর্ট নিয়ে দেখেছি, সিংহভাগ মহিলা তৃণমূলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। তারফলে প্রত্যেকটি আসনেই সহজ জয়ের আশা রয়েছে।
পালটা পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ বলছেন, রাজ্যে মহিলারা সুরক্ষিত নন। মায়েদের ছেলেমেয়েরা বেকার হয়ে বসে আছে। অনেককে আবার সংসার চালাতে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যেতে হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সামান্য ভাতায় সংসার চলে না। তাই এবার মাতৃশক্তি বিকল্প হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নিয়েছেন। ফলে মহকুমার চার আসন বিজেপির দখলেই থাকবে।
হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমার আরামবাগ, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া বিধানসভা মিলিয়ে মহিলা ভোটার রয়েছেন ৫ লক্ষ ৩ হাজার ২৩০ জন। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি মহিলা ভোট রয়েছে খানাকুল বিধানসভায়। সেখানে মহিলা ভোট রয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৮ জন। গোঘাটে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৭৮। আরামবাগে মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৫৫৮ জন। এছাড়া পুরশুড়ায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৭ হাজার ১৯৬। একুশের নির্বাচনে মহিলাদের ভোট তৃণমূল সরকারের হাত শক্ত করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও সেই জন্য বাংলার মহিলাদের কুর্নিশ জানিয়েছিলেন।