সংবাদদাতা, নবদ্বীপ, রানাঘাট ও তেহট্ট: ৪মে ভোটের ফল ঘোষণা। তার আগেই সবুজ ও গেরুয়া আবিরে ছেয়ে গিয়েছে নদীয়া জেলার বিভিন্ন বাজার। নবদ্বীপে গোস্বামী বাজার থেকে পাইকারি আবির বিক্রি হয়। নবদ্বীপ ও আশপাশের বিধানসভা আসনে জয় সুনিশ্চিত ধরে নিয়ে প্রচুর সবুজ আবির মজুত করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০বস্তা আবির বিক্রি হয়েছে, যার বেশিরভাগই সবুজ রঙের বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। রানাঘাট ও তেহট্টেও আবিরের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।
নবদ্বীপের গোস্বামী বাজার থেকেই নদীয়া সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার বহু এলাকায় আবির সরবরাহ করা হয়। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই এই বাজারে আবির কেনার ধুম পড়েছে। ইতিমধ্যে সবুজ ও গেরুয়া মিলিয়ে বেশ কয়েকলক্ষ টাকার আবির বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা জানালেন, এখন সবচেয়ে ভালো মানের আবিরের ১০কেজির বস্তার দাম ৮০০টাকা। মাঝারি মানের আবিরে ২০কেজির বস্তার দাম ৫০০টাকা। ৪মে জয়ী দলের আবিরের দাম বস্তা পিছু ২০০-৩০০টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। সেটা জেনেই আগেভাগে আবির মজুত করে রেখেছে দুই দল।
নবদ্বীপে তৃণমূল প্রার্থী পুণ্ডরীকাক্ষ(নন্দ) সাহার জয়ের প্রবল সম্ভাবনা আঁচ করে প্রচুর সবুজ আবির মজুত করেছেন শাসকদলের কর্মীরা। তৃণমূল ও বিজেপির কৃষ্ণনগর, চাপড়া, পলাশীপাড়া, পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়, বাঘনাপাড়া, পাটুলির নেতা-কর্মীরা সবুজ ও গেরুয়া আবির তুলেছেন। গোস্বামীবাজারের আবির ব্যবসায়ী চঞ্চল দেবনাথ বললেন, কলকাতার বড়োবাজার সহ নানা জায়গা থেকে ২০০০বস্তা আবির এসেছে। এবারও সবুজ আবিরের চাহিদা বেশি। পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু এলাকার ব্যবসায়ী অল্প করে গেরুয়া আবির নিয়ে গিয়েছেন। ৩মে পর্যন্ত সামান্য মার্জিনে বিক্রি হবে। ৪মে ফলাফল পরিষ্কার হতেই জয়ী দলের আবিরের দাম প্রায় দ্বিগুণের বেশি হবে। একই ছবি দেখা গেল রানাঘাট জংশন লাগোয়া রেলবাজারেও। শনিবার সকাল থেকেই রেলবাজার লাগোয়া বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরো দোকানে সবুজ আবির কেনার ধুম পড়ে। সেইসঙ্গে গেরুয়া আবিরও বিক্রি হচ্ছে। রানাঘাটে ১০কেজির আবিরের বস্তার দাম ৭০০-৮০০টাকা। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, সবুজ আবিরের চাহিদা তুঙ্গে। কেউ ১০কেজি, কেউ ২০কেজি করে সবুজ আবির নিয়ে যাচ্ছেন। গেরুয়া আবির বিক্রি হলেও তুলনায় অনেক কম। গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরে যে উন্মাদনা ছিল-তা রানাঘাটে এবার দেখছি না। সবুজ ও গেরুয়া আবির।