সংবাদদাতা, বজবজ: মহেশতলা, বজবজ এবং সাতগাছিয়া—এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রে এবারও বিপুল জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জোড়াফুল শিবির। দলের ভোট বিশ্লেষকদের ধারণা, এই তিন কেন্দ্রে এবার যে হারে ভোট পড়েছে তাতে, তাতেই তৃণমূলের জয় আরও নিশ্চিত হয়েছে। মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাস বলেন, ‘ইতিপূর্বে মহেশতলার মানুষ আমার মা কস্তুরী দাসকে তাঁদের হয়ে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। ইহলোক থেকে মা বিদায় নেওয়ার পর উপ নির্বাচনে বাবা দুলাল দাস প্রার্থী হলেন। তিনিও জনতা জনার্দনের আশীর্বাদ পেলেন। পরবর্তী সময়ে বাবা ফের প্রার্থী হন। এই আসন ধরে রাখেন। এবার দল আমার উপর ভরসা করেছে। প্রচারে বেরিয়ে এবং ভোটের দিন জনতার যে আবেগ ও উচ্ছ্বাস আমি লক্ষ্য করেছি, তাতে সোমবার মহেশতলায় সবুজ আবির উড়বেই।’ তিনি আরও জানান, এবার দলের সমস্ত কাউন্সিলার, পদাধিকারী একজোট হয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন। তার ফল মিলবে। এমনকি, তাঁরা ইতিমধ্যে জয় উদযাপনের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন বলে জানালেন শুভাশিস। বজবজ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বর্ষীয়ান অশোক দেব বলেন, ‘জয় নিয়ে কোনো চিন্তা করছি না। এর আগে ছ’টি টার্মে এই কেন্দ্রের বিধায়ক হয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এবারও জয় নিশ্চিত।’ বজবজ পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম দাশগুপ্ত, পুজালি পুরসভার চেয়ারম্যান তাপস বিশ্বাস, জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শিখা রায়, বজবজ-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বুচান বন্দ্যোপাধ্যায়রা বলেন, ‘অশোক দেব সপ্তমবার জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করবেনই।’ সাতগাছিয়ার তৃণমূল প্রার্থী সোমাশ্রী বেতাল অবশ্য কিছুটা সাবধানী। তিনি বলেন, ‘সোমবার ফল বেরনোর পর আমার মত জানাব। এখন নয়।’ যদিও তাঁর দলের সাংগঠনিক স্তরের সিনিয়র ও জুনিয়র দু’জন পদাধিকারী স্বপন হাতি এবং অয়ন দত্ত বলেন, ‘জয় নিয়ে কোনো সংশয় নেই। জোড়াফুল ফুটবেই।’ সাতগাছিয়ার বিজেপি প্রার্থী অগ্নীশ্বর নস্কর বলেন, ‘আগে ভোট দিতে পারত না মানুষ। এবার ভোট দিয়েছে। যা পদ্মফুলের দিকে গিয়েছে। তাই আমরা আশাবাদী।’ মহেশতলা কেন্দ্রের পদ্ম প্রতীকের প্রার্থী তমোনাথ ভৌমিক বলেন, ‘জয় নিয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। কারণ, এবার মানুষ জোড়াফুলের দিকে নেই।’ বজবজের বিজেপি প্রার্থী ডাঃ তরুণ আদক কোনো মন্তব্য না করলেও তাঁর দলের মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা সবিতা চৌধুরি এবং সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের ইনচার্জ হরিকৃষ্ণ দত্তের দাবি, ‘এসব এলাকায় এতদিন অনেকে ভোট দিতেই পারত না। এবার সবাই ভোট দিতে পেরেছে। তাই বজবজ এবং সাতগাছিয়া, দু’টি কেন্দ্রেই পদ্ম ফোটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।’