নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ২০২৬ সালের হুগলির ১৪টি আসনের নির্বাচনি ফল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আত্মবিশ্বাসী। ফলে, জেলায় দলের মধ্যে বা প্রার্থীদের মধ্যে বিশেষ তাপউত্তাপ নেই। দলের অন্দরে বর্তমানে গণনা প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে মিটিয়ে ফেলা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকেই গণনাকর্মী নির্বাচন থেকে নানা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। শনিবার এনিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব জেলাওয়াড়ি বৈঠক করেছেন। তারপরে তৎপরতা আরও বেড়েছে। তবে নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেতা থেকে কর্মী, কোনও মহলেই দেখা যায়নি। বামশিবিরেও গণনা নিয়ে প্রস্তুতির ছবি চোখে পড়েছে। অন্যদিকে, হুগলির একাধিক আসন নিয়ে দলীয় মহলে জল্পনাকল্পনার জেরে বিজেপি শিবিরে টানটান উত্তেজনার আবহ দেখা গিয়েছে।
হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অরিন্দম গুঁইন বলেন, সারাবছর আমরা মানুষের সঙ্গে থাকি। প্রতিটি কর্মী তাঁর সহ নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ফলে, নির্বাচনী ফল নিয়ে কর্মিমহলে আত্মবিশ্বাস থাকাটাই স্বাভাবিক। চণ্ডীতলা থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রতিটি আসন তৃণমূলের কাছে ছিল, তৃণমূলেরই থাকবে। জয় নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী কিন্তু আপাতত গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে দলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সেখানে অনেকগুলি জটিলতা থাকতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ভালো নয়। ফলে, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সেসব নিয়ে পরিকল্পনা চলছে। হুগলি সিপিএমের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, গণনা কেন্দ্রের এজেন্টদের নিয়ে পরিকল্পনা বৈঠক করা হয়েছে। প্রত্যেককে তাঁদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সেসব নিয়েই ব্যস্ত আছি। মানুষের বিবেচনার উপরে আমাদের ভরসা আছে। তাই ফলাফল নিয়ে চর্চার থেকে কাজের কাজ করার দিকেই আমরা বেশি নজর দিচ্ছি। বিজেপি’র হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভোটের বার্তা আমাদের জন্য ইতিবাচক। দলীয় সমীক্ষায় সেই ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উত্তেজনার পরিসর আছে। সপ্তগ্রাম, বলাগড়, চুঁচুড়া, ধনেখালি, সিঙ্গুর সহ একাধিক বিধানসভার কর্মিমহল উল্লসিত। তবে তার মধ্যেই গণনার প্রস্তুতিও চলছে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার ভোটপর্ব মিটতেই সমীক্ষায় নেমে পড়েছিলেন হুগলির তৃণমূল নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বুথ ধরে ধরে হিসেবনিকেষের পর্ব চলে। বৃহস্পতিবারই নেতৃত্ব দাবি করেছিলেন, দলীয় সমীক্ষা অনুসারে হুগলিতে প্রত্যাশিত ফলাফল হবে। অর্থাৎ চণ্ডীতলা থেকে চুঁচুড়া এবং চন্দননগর থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ১৪টি বিধানসভা আসনে ঘাসফুলের আধিপত্য বজায় থাকবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের টানটান এবং কঠিন লড়াইতেও তৃণমূল ওই আসনগুলি বিপুল ব্যবধানে জিতেছিল। তৃণমূল সুপ্রিমো এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা সব মহলে ছড়িয়ে পড়ার পরে শনিবার দিনভর গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ব্যস্ততা দেখা গিয়েছে। ১৪টি আসনে জয় নিয়ে শীর্ষ থেকে তৃণমূলস্তরের কর্মীদের আত্মবিশ্বাসের জেরেই, কার্যত কোনও তাপউত্তাপ ঘাসফুল শিবিরে