• ভোট দেওয়ার ডাক, মাইক হাতে  গ্রামে দাপাদাপি কেন্দ্রীয় বাহিনীর
    বর্তমান | ০৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মূল রাস্তা থেকে ঢুকে গলির ভিতর কিছুটা এগিয়ে গেলে একতারা মলয়া অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুল। সেখানে ২১৪ ও ২১৫ নম্বর বুথ। কমিশনের নির্দেশে সেখানে পুনর্নির্বাচন হয়েছে শনিবার। বুথে পৌঁছানোর রাস্তার দু’পাশে বাড়িঘর আছে। 

    এদিন সেখানে অন্য ছবি দেখলেন গ্রামবাসীরা। গ্রাম দাপিয়ে ঘুরল কেন্দ্রীয় বাহিনীর শতাধিক জওয়ান। তাঁদের হাতে মাইক, বাংলা ও হিন্দিতে ঘোষণা করতে করতে কখনও কংক্রিটের রাস্তা ধরে গেলেন, কখনও গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে পৌঁছে গেলেন বুথের শেষমাথায়। বার্তা একটাই, নির্ভয়ে ভোট দিতে আসুন সবাই। তবে জওয়ানদের ভারী বুটের শব্দে তটস্থ আট থেকে আশি। বাহিনীর রুট মার্চ দেখতে বাড়ির বাইরে ভিড় করলেন সাধারণ মানুষ। কচিকাঁচারা বাড়ির উঠোনে খেলাধুলো করছিল। জওয়ানদের হাতে লাঠি ও বন্দুক দেখে ভয়ে কেউ মায়ের পিছনে লুকিয়ে পড়ে কেউ ঘরে ঢুকে পড়ে। বয়স্করা অবাক চোখে সব দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কারণ এর আগে তাঁরা এমন দৃশ্য দেখেননি। বাহিনীর টহল দেখে গ্রামবাসীদের মুখের অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছিল, তাঁদের শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গিয়েছে। সবমিলিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিবেশে চলল ভোট। বাহিনীকে দেখে কেউ বললেন, এত বাহিনী গ্রামে কেন বোঝা গেল না! 

    এই পাড়ায় কোনোদিন গোলমাল হয়নি। তাহলে এই বন্দোবস্ত কেন? প্রশ্ন অনেকেরই। ২১৪ ও ২১৫ বুথ একটি স্কুলে হলেও এই এলাকারই মলয়া ঢোরা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১৬ নম্বর বুথেও পুনর্নির্বাচন হয়। গোটা মহল্লা যেন এদিন তটস্থ ছিল। 

    এই বুথগুলিতে ভালো সংখ্যক ভোটার রয়েছে। কিন্তু ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন যে ভিড় ছিল, পুনর্নির্বাচনের দিন তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তাই লোকজন যাতে জানতে পারে যে, এদিন আবার ভোট হচ্ছে তাই এই এলাকার তিন বুথে মাইকে প্রচার করার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন জওয়ানরা। সব ভোটার পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে জানেন কি না সে নিয়েও যাঁরা ভোট দিতে এসেছেন তাঁদের জিজ্ঞাসা করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। যেমন দেউলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২৮ নম্বর বুথে বাহিনীর পদস্থ কর্তারা ভোট পরিস্থিতি দেখতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের সে কথা জিজ্ঞেস করেন। বাড়ি ফিরে বাকিদেরও এই নিয়ে অবগত করার আর্জি জানান। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)