• ভোট আর ফলের মাঝে টেনশন বাড়িয়েছে ইভিএম, পাহারায় প্রার্থীরা
    বর্তমান | ০৩ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট শেষ। দীর্ঘ একমাস পথে, প্রান্তরে প্রচার চালানোর পর এখন কী করছেন রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা? অন্যান্যবার ভোটের পর গণনা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে থাকেন। একটু হালকা থাকেন। এবার যোগ হয়েছে নয়া অনুসঙ্গ। ভোটে কারচুপির যে নজির সাম্প্রতিক অতীতে দেশে তৈরি হয়েছে, তা রুখতে নিদ্রাহীন অবিজেপি দলগুলির প্রার্থীরা। অধিকাংশ প্রার্থী জালিয়াতি রুখতে ইভিএম পাহারা দিচ্ছেন।

    কেউ পার্টি অফিসে বসে ফলপ্রকাশের দিনের খুঁটিনাটি কাজ সেরে ফেলছেন এখন। কেউ নিজের কেন্দ্র ছেড়ে দলীয় কাজে গিয়েছেন অন্যত্র। আত্মবিশ্বাসের চুড়ায় উঠে বসে রয়েছেন অনেক প্রার্থী। সবমিলিয়ে শারীরিক পরিশ্রম কমলেও মগজের কাজ থামেনি তাঁদের। তার পাশাপাশি এবার গণনাকেন্দ্রের নজরদারিতেও ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

    পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন সিপিআইয়ের তরুণ প্রার্থী সৈকত গিরি। তিনি ভোট শেষে চলে গিয়েছেন কলকাতা। বললেন, ‘পার্টির নির্দেশ মেনে কলকাতায় কয়েকজনের প্রচারে যোগ দিয়েছিলাম। এবার পটাশপুরে ফিরে যাব। তার পর ইভিএম পাহারা দেব। ওখানে আমাদের দলের লোকেরা ইতিমধ্যেই ইভিএম পাহারার কাজ শুরু করেছেন।’ বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগম শনিবার নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বালিগঞ্জের ১২৬ ও ১৬৫ নম্বর বুথে ওয়েকাস্টিং কাজ করেনি। তাঁর দাবি, পুনর্নির্বাচন অথবা ওয়েবকাস্টের সম্পূর্ণ ফুটেজ তাঁদের দিতে হবে। তিনিও স্ট্রং রুমে নজরদারি চালাচ্ছেন।

    তৃণমূলের রাসবিহারী কেন্দ্রের প্রার্থী দেবাশিস কুমার এদিন ছিলেন দেশপ্রিয় পার্কের দপ্তরে। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের আলাপ সেরে বললেন, ‘আমি জেতার বিষয়ে সম্পূর্ণ আশাবাদী। ৪ তারিখ হাতে সার্টিফিকেট পাওয়ার পর বিশ্রাম নেব। ছোটো বড়ো মিলিয়ে ৭টি নির্বাচন লড়েছি। এরকম অভিজ্ঞতা কখনওই হয়নি। গণনার সময় আবার নতুন কোনও সমস্যা সামনে আসবে কি না জানি না। এখন আমরা সকলে ইভিএম পাহারা দিচ্ছি। সবকিছু নিয়েই উদ্বেগে আছি।’ বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ হালকা মুডে থাকলেও বলছেন, ‘দিদির নির্দেশে ইভিএম পাহারায় আছি। আমরাই সরকারে ফিরছি। আলাদা করে কোনো চিন্তা নেই।’

    আপাতত ইভিএম রক্ষাই চিন্তা। ৪ মে’র দিকে তাকিয়ে সকলে। 
  • Link to this news (বর্তমান)