নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার দুপুর– একের পর এক ঘূর্ণিঝড় থাবা বসাল উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থেকে সন্দেশখালিতে। শনিবার দুপুরে সন্দেশখালির ভাণ্ডারখালিতে আচমকা টর্নেডোতে একাধিক বৈদ্যুতিক পোস্ট ভেঙে পড়ে। অনেক ঘরের অ্যাসবেস্টসের চাল উড়ে যায়। একাধিক বড় গাছ ভেঙে পড়ে রাস্তার উপরে। এলাকার মানুষ রাস্তা থেকে গাছ সরানোর কাজে হাত লাগায়।
এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে মুষলধারে বৃষ্টি ও আচমকা কয়েক সেকেন্ডের ঘূর্ণিঝড়ে দেগঙ্গার আমুলিয়া পঞ্চায়েতের কলাপোল গ্রামের পালপাড়া এলাকায় নেমে এল বিপর্যয়। ৩০ সেকেন্ডের ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এলাকার একাংশ। ভেঙেচুরে যায় টালি ও টিনের ঘর। উড়ে যায় চাল, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসল। ভেঙে পড়া ঘরের নীচে চাপা পড়ে এক শিশুসহ মোট আটজন আহত হন।
জানা গিয়েছে, দেগঙ্গার পালপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আচমকা ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। দমকা হাওয়ায় ভেঙে পড়ে একাধিক বাড়ির টালির চাল, কোথাও বা টিনের ছাউনি উড়ে যায়। বাঁশ, টালি ও টিনের ভাঙা অংশের নীচে চাপা পড়েন এলাকার আটজন। ঝড়ের দাপটে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষিজমিতেও। পেঁপে ও কলাগাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, ধান-সহ অন্যান্য ফসলেরও বড়সড় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুরজিৎ পাল বলেন, ঝড়ে গোটা ঘর ভেঙে গিয়েছে। সরকারি সাহায্য না পেলে কী করব জানি না। এনিয়ে আমুলিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ ইমদাদুল হক বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি। এনিয়ে দেগঙ্গার বিডিও নাজমুল আরেফিন মিদ্যা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির একটি রিপোর্ট ব্লক থেকে জেলা স্তরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, সন্দেশখালির ভাণ্ডারখালির খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সত্যজিৎ স্যান্যাল বলেন, এদিন আচমকা এক মিনিটের ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এলাকায়। খুলনা গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, শুক্রবার রাতে পৃথক কালবৈশাখী ঝড়ে একাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে যায় হাসনাবাদের বিশপুর এলাকায়। ঝড়ে গাছ উপরে পড়ে মৃত্যু হয় গবাদিপশুর। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাটির বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লক্ষ্মণ সরকার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় একটি গোরু ও এক ছাগলের। বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন লক্ষ্মণবাবু। তাঁর ছাড়াও গ্রামে আরও কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গিয়েছে। (উপরে) ঝড়ের দাপটে ভেঙে পড়েছে বাড়ির চাল। (নীচে) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের।