নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় এবার নয়া সংযোজন ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন করে ভোটগ্রহণ! সেটাও বাংলার ভোটের ফল প্রকাশের প্রায় দু’সপ্তাহ পর, ২১ মে। ফলতা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোট হবে। ফল প্রকাশ হবে ২৪ মে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বিজেপি-ভ্যানিশ কুমাররা ভয় পেয়েছেন। তাই এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত। প্রথম পর্যায়ের স্ক্রুটিনিতে ফলতায় সবকিছু ঠিক ছিল। বিশেষ রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত ডায়মন্ডহারবার মহিলা কলেজে বসে দ্বিতীয় পর্যায়ের স্ক্রুটিনি করে এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছেন কমিশনকে।’ প্রাথমিকভাবে এই কেন্দ্রের ৩২টি বুথে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। পরে সংখ্যাটা বেড়ে হয় ৬৮। কিন্তু তার জন্য গোটা কেন্দ্রেই নতুন করে নির্বাচনের যৌক্তিকতা কতটা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, শনিবারই দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫টি বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তারপর রাত ১০টা নাগাদ কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
ফলতায় ভোট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সুদূর যোগীরাজ্য থেকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল বিজেপির ‘পছন্দের’ পুলিশ অফিসার অজয় পাল শর্মাকে। ফলতার মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁর ধমক-চমকের ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। তারপরও সেই ফলতায় ভোটের দিন বুথ ক্যাপচার, ভোটারদের হুমকি, ইভিএমে টেপ, আতর লাগিয়ে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ওঠে। শুধু টেপ লাগানোই নয়, বেশ কিছু বুথে ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে ক্যামেরা বন্ধ থাকা নিয়ে কোনো তথ্যও আসেনি কন্ট্রোল রুমে। অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সূত্রের খবর, নির্বাচনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে, তাই সমগ্র ফলতা বিধানসভায় গণনা স্থগিত করা হোক—এই মর্মে রিপোর্ট জমা পড়ে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই এদিনের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, ফলতা বাদে বাকি ২৯৩টি কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে সোমবার।
শনিবার নতুন করে উত্তপ্ত হয় ফলতার হাসিমনগর। সেখানকার বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁদের হুমকি দিয়েছে এবং মারধর করেছে তৃণমূল। প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। যদিও তৃণমূল যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। হুমকি ও মারধরের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
এদিকে, গণনার আগে রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে কমিশন। ভোট গণনা শান্তিপূর্ণভাবে মেটাতে ১৬৫ জন কাউন্টিং অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের সাহায্য করতে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত অবজার্ভারও। সেই সঙ্গে আরও ৭৭ জন পুলিশ অবজার্ভার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের গতিবিধির গণ্ডি টেনে দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই এই পুলিশ পর্যবেক্ষকরা গণনাকক্ষের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। অন্যান্য নির্বাচনি কর্মীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন তাঁরা। গণনা পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসার ছাড়া আর কেউ মোবাইল নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ফর্ম-১৭সি টু-তে ফলাফল লেখা হবে। সেটি ‘কাউন্টিং সুপারভাইজার’ প্রস্তুত করবেন। কাউন্টিং এজেন্টরা উপস্থিত থেকে তাতে সই করবেন। প্রতিটি টেবিলে উপস্থিত মাইক্রো অবজার্ভারকে আলাদা করে ফলাফল লিখে রাখতে হবে।