নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পরপর দু’দিন। দু’দিনই ভোরের সময়। ঘটনাস্থলও সিঙ্গুরের ডানকুনিগামী লেন। দুই গাড়ি দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু হল ছ’জনের। তার মধ্যে একটি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এক শিশু সহ জখমের সংখ্যা পাঁচ। অপর একটি দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তিনি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির চালক। শুক্রবার ও শনিবারের ভোরে সিঙ্গুরে এই দু’টি দুর্ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়েছে।
শুক্রবার ভোরে সিঙ্গুরের রতনপুরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে ডানকুনিগামী লেনে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। ডানকুনির একটি পরিবারের ন’জন সদস্য ও গাড়ির চালক সহ ১০জন গয়ায় পিণ্ডদান করতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে গাড়িটি রতনপুরের কাছে একটি ডাম্পারের পিছনে জোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। কার্যত গাড়ির মধ্যে চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, এক শিশু ও চালক সহ জখম ছ’জনকে উদ্ধার করে প্রথমে সিঙ্গুরের ট্রমা কেয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে পাঁচজনকে শ্রীরামপুরের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। শিশুটিকে বিপদমুক্ত ঘোষণা করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলেও চারজন শনিবারও চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম পরিতোষ কীর্তনীয়া (৬০), তাঁর স্ত্রী কাজল কীর্তনীয়া (৫৫), তাঁদের দুই মেয়ে ফুলি মুখোপাধ্যায় (৩২) ও মিঠু বাগ (৩০) এবং ফুলির স্বামী ও গাড়ির চালক রাজু মুখোপাধ্যায় (৩৭)। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের দাবি, দীর্ঘযাত্রার কারণে চালক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ভোরের দিকে ঘুম চোখে তিনি গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। গাড়িটি প্রবল গতিতে চলছিল। আর চারচাকার এই গাড়ির তুলনায় রাস্তায় ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারটি অনেক শক্তপোক্ত। ফলে সংঘর্ষে যাত্রীবাহী গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। তাতেই হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই শনিবার ভোররাতে একই কায়দায় সিঙ্গুরের গোপালনগরে একটি ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বালি বোঝাই ট্রাকটি একটি ডাম্পারের পিছনে গিয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে তাতে আগুন ধরে যায়। দ্রুত দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভায়। কিন্তু ততক্ষণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চালকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।