নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর মহকুমার ১২টি বিধানসভার ফল ঘোষণা সোমবার। সকাল আটটা থেকে শুরু গণনা। বারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, সোদপুরের গুরুনানক কলেজে ছ’টি করে কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে। বর্তমানে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে গণনাকেন্দ্র দু’টি। জানা গিয়েছে, ইভিএম কারচুপি রুখতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
এরই মধ্যে সোদপুরের গুরুনানক কলেজে শুক্রবার রাতে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিজেপির অভিযোগ, তাঁদের কর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পালটা পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেছেন, ‘গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছে দমদমের বিজেপি কর্মীরা।’ গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি ভোট পড়েছে শিল্পাঞ্চলে। ভোটদান প্রায় ৯২ শতাংশ। অন্যান্য বছর অশান্তি হলেও এবার শিল্পাঞ্চল ভোটের দিন মোটামুটি ছিল শান্তিপূর্ণ। দমদম বারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পার্থ ভৌমিক জানিয়েছেন, যে আসনগুলি তাঁদের ছিল সেগুলির মার্জিন কত বাড়বে সেটাই দেখার। ভাটপাড়া আসনটি ফিফটি ফিফটি জেতার অবস্থায় রয়েছে। নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান গোপাল রাউতকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে ঢুকিয়েছে। আরও কয়েকজন কাউন্সিলারকে পুলিশ এবং এনআইএ বাড়িছাড়া করেছে। তার মধ্যেও তৃণমূল কাজ করছে। মানুষ ভোট দিয়েছে। তৃণমূল আশাবাদী। অর্জুন সিং জানিয়েছেন, ভাটপাড়া বিজেপির দখলে থাকবে। তিনিও নোয়াপাড়ায় জিতবেন। বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী জানান, গতবারের থেকে মার্জিন অনেক বাড়বে। বীজপুরের সুবোধ অধিকারী বলেন, ‘পাঁচবছর ধরে কাজ করেছি। মানুষ আশাকরি মুখ ফেরাবে না। গতবার লড়াই অনেক কঠিন ছিল। উলটো দিকে প্রার্থী ছিলেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়।’ নৈহাটির তৃণমূল প্রার্থী সনৎ দে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের উপনির্বাচনে ৪৯ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। এবার মার্জিন তার থেকে বাড়ে কি না তা নিয়েই তিনি চিন্তিত। জগদ্দলের সোমনাথ শ্যাম জয় নিয়ে পুরো নিশ্চিত। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। পানিহাটির তীর্থঙ্কর ঘোষ জেতার বিষয়ে নিশ্চিত। জেতার বিষয়ে আশাবাদী মদন মিত্র, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু, অদিতি মুন্সীরা। শুধু বিধায়করা নয়, চিন্তিত কাউন্সিলরাও। তাঁদের ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থীদের লিড দেওয়া নিয়ে চিন্তা। বুথ ধরে ধরে সেই বিশ্লেষণ করছেন কাউন্সিলররা।