অরুণাচল প্রদেশের এক হিডেন জেম মেছুকা (Mechuka)। পাহাড়, নদী, সবুজ উপত্যকা আর শান্ত পরিবেশ— সব মিলিয়ে এটি এমন একটি গন্তব্য, যেখানে গেলে মন ভালো হতে বাধ্য। যাঁরা ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে অফবিট ট্রাভেল পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য মেচুকা একেবারে আদর্শ জায়গা।
মেছুকা অরুণাচল প্রদেশের শি-ইওমি জেলায়, ভারত-চিন সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত এক উপত্যকা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ছোট্ট উপত্যকাকে ঘিরে রয়েছে বরফঢাকা পাহাড়, সবুজ বন আর সিয়োম নদী। এখানকার নির্মল পরিবেশ ও নির্মল প্রকৃতি মাঝে কটা দিন কাটালে, ভালো হয়ে যায় সব মনখারাপ
মেছুকা মূলত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বিখ্যাত। শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে মানসিক শান্তি পেতে চাইলে এটি সেরা জায়গা। এখানে আপনি পাবেন তিব্বতি সংস্কৃতির ছোঁয়া, মোনপা ও মেম্বা উপজাতির জীবনযাত্রা এক্সপ্লোর করার সুযোগ।
মেছুকায় গেলে অবশ্যই ঘুরে দেখবেন ৪০০ বছরের পুরোনো সামতেন ইয়ংচা মনাস্ট্রি। পাহাড়ের উপরে অবস্থিত এই মনাস্ট্রি থেকে পুরো উপত্যকার অসাধারণ একটা ভিউ পাওয়া যায়। এছাড়া সিয়োম নদীর ধারে বসে সময় কাটাতে বেশ লাগে। মেছুকার ঝুলন্ত ব্রিজ, সবুজ ঘাসে ঢাকা উপত্যকা এবং ছোট ছোট গ্রামগুলো আপনাকে মুগ্ধ করবেই।
এখানে গিয়ে ট্রেকিং, ক্যাম্পিং, নদীর ধারে পিকনিক কিংবা সাইক্লিং করতে পারেন। স্থানীয় গ্রামগুলোতে গিয়ে তাঁদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলবেন না যেন।
মেছুকা পৌঁছতে হলে প্রথমে আপনাকে অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগর বা অসমের ডিব্রুগড় যেতে হবে। সেখান থেকে গাড়িতে করে আলো (Aalo) হয়ে মেছুকা পৌঁছনো যায়। ডিব্রুগড় থেকে মেছুকার দূরত্ব প্রায় ১৮০-২০০ কিলোমিটার, তবে পাহাড়ি রাস্তা হওয়ায় সময় বেশি লাগে। নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট ডিব্রুগড়, সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক।
মেছুকায় থাকার জন্য রয়েছে কিছু হোমস্টে ও ছোট হোটেল রয়েছে। এখানে বিলাসবহুল রিসর্ট না থাকলেও স্থানীয় হোমস্টেগুলিতে থাকা একেবারেই আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।
এখানে প্রতি বছর মেছুকা অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়। প্যারাগ্লাইডিং, রিভার রাফটিং, মাউন্টেন বাইকিং, ট্রেকিং সহ নানা অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের জন্য বিখ্যাত এই অনুষ্ঠান। দেশ-বিদেশ থেকে বহু অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী মানুষ এই সময়ে ভিড় করেন এখানে। সাধারণত নভেম্বর মাসেই হয় সেই ফেস্টিভ্যাল। সঙ্গে থাকে স্থানীয় উপজাতিদের ঐতিহ্যবাহী নাচ, গানের আয়োজন। এক্সপ্লোর করতে পারেন মেছুকা কালচারাল হাট। সঙ্গে বাড়তি পাওনা অরুণাচলের স্থানীয় খাবারের স্বাদ চেখে দেখার সুযোগ। সব মিলিয়ে দারুণ এক অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।