এই সময়, মালদা: গভীর রাতে রেলের সাবওয়ে দিয়ে সাদা কাপড় পরে হেঁটে যাচ্ছে 'ভূত'। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ রকম একটি ভিডিয়ো ভাইরাল (সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়') হওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে মালদার ইংরেজবাজারে। রাতে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হ্যান্টা কালীবাড়ি মোড় সংলগ্ন ওই সাবওয়ে দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকে। কোনও লাইট না-থাকায় সাবওয়ে এমনিতেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। অন্য প্রান্তে রয়েছে ঘন জনবসতিপূর্ণ মালঞ্চপল্লি ও কৃষ্ণপল্লি এলাকা। শর্টকাট রাস্তা হওয়ায় অসংখ্য মানুষ মোটরবাইক, টোটো বা পায়ে হেঁটে সাবওয়ের তলা দিয়ে যাতায়াত করেন।
কিন্তু 'ভূত'-এর দৌরাত্ম্যের ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরে গভীর রাতে ওই পথে যাতায়াত কমে গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, মধ্যরাতে সাদা কাপড় মুড়ে একজন অন্ধকারের মধ্যে হেঁটে চলেছে। কিছুক্ষণ পরে তাকে আর দেখা যাচ্ছে না। সিসিটিভি ক্যামেরায় 'ভূত' দেখে ছুটে পালাতে দেখা গিয়েছে দুই যুবককে। এতেই দু'য়ে দু'য়ে চার করে অনেকে জানিয়েছেন, সাবওয়ে সংলগ্ন রেললাইনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন। ফলে অশরীরী আত্মা তো থাকবেই। সাদা কাপড় মুখে থাকায় অনেকে এর নাম দিয়েছেন- ফর্সা ভূত। ঘটনার কথা জানেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের মালদা শাখার সভাপতি সুনীল দাস। তিনি বলেন, 'ভূত বলে কিছু হয় না। এ সব বুজরুকি। এখন বৈশাখ মাস। মালদার বিভিন্ন এলাকায় মুখা নাচ, গম্ভীরা উৎসব হয়। সে সব উৎসবে কেউ হয়তো বিভিন্ন ধরনের মুখা পড়ে বেশভূষা পাল্টে ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তিনিই হয়তো সিসি ক্যামেরায় ছবি হয়েছেন। সেটাই কেউ বা কারা সোশ্যাল মিডিয়ায় 'ভূত' আতঙ্ক বলে ভাইরাল করেছে।' তাঁর সংযোজন, 'এ রকম ভাবে যারা অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।' মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ পেলে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
ইংরেজবাজার শহরের মালদা মেডিক্যাল কলেজের মেন গেটের পাশেই রয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। মেডিক্যাল কলেজের এক ধারে বহু প্রাচীন হ্যান্টা কালী মন্দির। কাছেই ট্র্যাফিক পুলিশের নাকা পয়েন্ট। রাস্তার উল্টোদিকে রয়েছে রেলের ছোট্ট ওই সাবওয়েটি। রেল লাইনের ও পারে যেতে অসংখ্য মানুষ ওই সাবওয়ে ব্যবহার করে। ইংরেজবাজার পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মালঞ্চপল্লি এলাকার বাসিন্দা বিটুল রায়, মাস্তু সিংহ বলেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় রেলের সাবওয়ে দিয়ে ভূত-এর চলাফেরার ভিডিয়ে দেখে অনেকের মনে ভয় তৈরি হয়েছে। বাড়ির মহিলা এবং অল্প বয়সীরা সন্ধ্যার পরে ওই রাস্তায় যাচ্ছে না। জানি না কতটা সত্যি। প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।' কালীমন্দিরের এক সেবাইত বলেন, 'সাবওয়ে সংলগ্ন রেললাইনে অনেক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অতৃপ্ত আত্মারা ঘুরে বেড়াতে পারে।' স্থানীয় তৃণমূল নেতা সৌভিক মণ্ডল ওই দাবি নস্যাৎ করে বলেছেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। কেউ হয়তো ভিউয়ার্স বাড়াতে এটা করে থাকতে পারে। তা ছাড়া মন্দিরের কাছাকাছি ভূত থাকতে পারে না।'