• নির্বাচনের গেরোয় আটকে বাঁধ নির্মাণ, বৃষ্টিতে ফের আতঙ্ক, জলবৃদ্ধিতে বন্যপ্রাণ নিয়েও উদ্বেগ
    এই সময় | ০৩ মে ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার ও ময়নাগুড়ি: অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে ভুটান পাহাড়ে। ঝড়-বৃষ্টি চলছে আলিপুরদুয়ারে। বাড়ছে শিসামারা নদীর জলও। আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের শালকুমার এলাকার বাসিন্দাদের। নদীর জল বাড়তেই ভাঙনের আতঙ্ক শুরু হয়েছে। প্রধান অবশ্য জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে বারো কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও নির্বাচনের গেরোয় আটকে রয়েছে বাঁধের কাজ।

    গত বছর ৫ অক্টোবর ভুটান থেকে ডলোমাইট মিশ্রিত জলে শিসামারার বাঁধ ভেঙে প্লাবনের ঘটনা ঘটে। সেচ দপ্তর ১ কোটি ৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩৪০ মিটার অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করলেও সেই বাঁধ ভেঙে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। নতুন পাড়া, সিধাবাড়ি, মুন্সিপাড়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র বালি এবং মাটির বস্তা দিয়ে কাজ করায় বাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকেছে। এ বারের বৃষ্টিতে ফের আতঙ্কে গোটা এলাকার বাসিন্দারা। শালকুমার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শ্রীবাস রায় বলেন, 'সেচমন্ত্রী পরিদর্শন করে যাওয়ার পরে ওই এলাকায় বাঁধের জন্য ১২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন মিটে গেলেই বাঁধের কাজে জমি অধিগ্রহণ করা হবে।' আলিপুরদুয়ারের বিদায়ী বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, 'বাঁধের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। নির্বাচনী আচরণ বিধি উঠে গেলে কাজ শুরু হবে।'

    অন্যদিকে, ডুয়ার্সের নদীগুলোয় জলস্তর বাড়ায় নদী সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণীদের নিয়ে চিন্তায় বন দপ্তর। কুনকি নিয়ে তল্লাশির সঙ্গে উঁচু নজরমিনার থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গোরুমারা জঙ্গল লাগোয়া রামসাই এলাকার জলঢাকা, মূর্তি, ডায়না নদী সংলগ্ন ঘাসবনে রয়েছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন এলাকায় নদীর জলস্তর বৃদ্ধির নির্দেশিকা জারি করার পরে চিন্তা বেড়েছে বনকর্মীদের।

    গত বছর অক্টোবরে হড়পা বানে মারাত্মক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছিল ডুয়ার্সের বন্যপ্রাণ। একাধিক ছোট-বড় বন্যপ্রাণীর মৃত্যুও হয় ডুয়ার্সে। এর মধ্যে ময়নাগুড়ির রামসাইতে বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। শনিবার ময়নাগুড়ির রামসাই এলাকার পানবাড়ি জলঢাকা নদীর চরে হাতির পাল আটকে পড়ে। গোরুমারা দক্ষিণের রেঞ্জার ধ্রুবজ্যোতি বিশ্বাস বলেন, 'প্রশাসনের তরফে জলস্তর বৃদ্ধির নির্দেশিকা এসেছে। বন্যপ্রাণীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নদী সংলগ্ন এলাকায় কুনকি হাতি নিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি নজরমিনার থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে।'

  • Link to this news (এই সময়)