এই সময়, কোচবিহার: কোচবিহার জেলার ন'টি বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না তৃণমূল ও বিজেপি। সোমবার সকাল থেকে ভোটগণনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, রাজনৈতিক দলগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রবিবার থেকেই তাদের সমস্ত কাউন্টিং এজেন্টকে জেলা সদরে নিয়ে এসে রাখার ব্যবস্থা করে ফেলেছে। মূলত গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা কর্মীদের যাতায়াতের সমস্যা দূর করতে উদ্যোগ নিচ্ছে দলগুলো। শেষ মুহূর্তে কোনও এজেন্টের অনুপস্থিতি যাতে দলের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এমন আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন দলীয় কার্যালয়, ক্লাব ঘর এমনকী বেসরকারি ভবন ও লজ ভাড়া করে এই বিপুল সংখ্যক এজেন্টদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কোচবিহার জেলার পাঁচটি কেন্দ্রে গণনার কাজ পরিচালিত হবে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোচবিহার পলিটেকনিক কলেজে কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা করা হবে। দিনহাটা ও সিতাই বিধানসভার ভোট গোনা হবে দিনহাটা কলেজে। মেখলিগঞ্জ উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেখলিগঞ্জ বিধানসভার এবং মাথাভাঙা কলেজে মাথাভাঙা ও শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা চলবে। অন্য দিকে তুফানগঞ্জ ও নাটাবাড়ি বিধানসভার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে তুফানগঞ্জ কলেজকে। নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন প্রার্থীর পক্ষে ২২ জন করে কাউন্টিং এজেন্ট নিয়োগ করতে হচ্ছে। দলগুলোর মূল এজেন্টের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন অতিরিক্ত কর্মীও প্রস্তুত রাখছে।
অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে দেখা গিয়েছে যে, অনেক সময়ে গণনা শুরুর ঠিক আগে এজেন্টদের খুঁজে পাওয়া যায় না। তাঁরা নানা কারণে গণনাকেন্দ্রে সময়ে পৌঁছতে ব্যর্থ হন। এই ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে কোচবিহারের দুই প্রধান রাজনৈতিক পক্ষ এবার অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, 'রবিবার থেকেই আমাদের সমস্ত এজেন্ট নির্দিষ্ট এলাকায় জড়ো হয়ে যাবেন।' বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, 'জেলার ন'টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তাদের ২০০-র বেশি এজেন্ট প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁদের থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে যাতায়াতের যাবতীয় খরচ দল বহন করছে। অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সঙ্গে এই এজেন্টদের রাতে শহরে রেখে পরের দিন ভোরে সরাসরি গণনাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।'