‘দম থাকলে ফলতায় গোটা ভারত নিয়ে আসুন!’ চ্যালেঞ্জ জানালেন অভিষেক: ডায়মন্ড হারবার মডেলে কালি ছেটানো দশ জন্মেও অসম্ভব
আনন্দবাজার | ০৩ মে ২০২৬
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভায় আবার নতুন করে ভোটগ্রহণের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তার পরেই আসরে নেমে পড়েছে বিজেপি। তাদের খোঁচা, ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল ধুলিস্মাৎ’ হয়ে গিয়েছে। এ বার সেই খোঁচার পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঙ্কার, ডায়মন্ড হারবার মডেল কালিমালিপ্ত করতে ১০ জন্মও যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দালাল’ বলেও কটাক্ষ তৃণমূলের ‘সেনাপতি’র। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘আমি গোটা ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি— ক্ষমতা থাকলে সর্বশক্তি নিয়ে ফলতায় চলে আসুন।’’
২৯ এপ্রিল, বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। সে দিনই ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিন ওই বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা অভিযোগ ওঠে। পরে ওই কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথের পুনর্নির্বাচনের দাবিও তোলা হয়। শনিবার রাতে কমিশন জানায়, গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রেই আবার নতুন করে নির্বাচন হবে। তার পরেই বিজেপি অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে খোঁচা দেয়। বিজেপি নেতা অমিত মালবীয় এক্স পোস্টে লেখেন, ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল চুরমার’। সেই পোস্টের জবাব দেন অভিষেক। এক্স পোস্টে তাঁর পাল্টা, ‘আপনাদের বাংলা বিরোধী গুজরাতি গ্যাং এবং তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমারের পক্ষে আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে কালি ছেটানো সম্ভব নয়।’ অভিষেক আরও লেখেন, ‘আপনাদের যা কিছু আছে, সব নিয়ে চলে আসুন। আপনাদের সবচেয়ে শক্তিধরকে পাঠান, দিল্লি থেকে কোন এক গডফাদারকে পাঠান। যদি ক্ষমতা থাকে ফলতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন।’
ভোটগ্রহণ পর্বের আগে থেকেই আলোচনায় ফলতা। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা বনাম ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের মধ্যে ‘ঠান্ডা লড়াই’ শুরু হয়। ভোটের দিনও সংবাদের শিরোনামে ছিল ফলতা। অভিযোগ ওঠে, ওই বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএমে বিজেপি এবং সিপিএমের বোতামের উপর ‘টেপ’ লাগানো রয়েছে। সেই নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট বুথের প্রিসাইডিং অফিসার দুপুর ১টায় জানান, টেপ তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তত ক্ষণে ওই বুথগুলিতে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে ওই বুথগুলির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তার পরেই ফলতার বেশ কয়েকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জানানো হয় কমিশনের কাছে। কোন বুথে পুনর্নির্বাচন হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্ক্রুটিনি করে কমিশন। সেই স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুনর্নির্বাচন সংক্রান্ত রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠান সুব্রত। সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে বিশেষ করে উল্লেখ ছিল ফলতার নাম। কমিশনের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে সুব্রত জানান, ফলতার প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচন করানো হোক। তবে শনিবার কমিশন জানিয়ে দিল, আলাদা করে কোনও বুথে নয়, গোটা ফলতা বিধানসভাতেই নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে। ভোটগণনা হবে ২৪ মে। অর্থাৎ, সোমবার ফলতা বাদে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হবে। তার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।