পরিকল্পনা মতো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাও ভাল হয়েছে। সব পক্ষেরই এ ব্যাপারে এক সুর। কিন্তু ফল প্রকাশের পরে উদ্যাপন কী ভাবে করা হবে? এই প্রশ্ন করলেই কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে, আড়ষ্ট শোনাচ্ছে জনাদেশের পরীক্ষায় বসা সব পক্ষকেই। বুঝেশুনে বলতে গিয়ে তাঁদের কারও বক্তব্য, ‘‘ছোটবেলায় পরীক্ষার আগে ভাবতাম, প্রথম হলে বাবার থেকে সাইকেল নেব বা বেড়াতে নিয়ে যেতে বলব। আজ আর সে সব ভাবি না। এ তো আর ছোটবেলার পরীক্ষা নয়!’’ কেউ কেউ আবার বলছেন, ‘‘এই পরীক্ষায় হার-জিতে পার্থক্য কী? মানুষের কাজ করেন যাঁরা, তাঁদের উৎসব করার সময়থাকে না।’’ কিছুটা আশঙ্কার সুরে কেউ কেউ আবার প্রশ্নকর্তাকেইজিজ্ঞাসা করে নিচ্ছেন, ‘‘ফল কোন দিকে যাবে? উত্তীর্ণ হয়ে সম্মান-রক্ষা করা যাবে তো?’’
ভোট-বঙ্গে নির্বাচনী ফল প্রকাশের আগে উৎকণ্ঠার স্রোত বইছে সব স্তরেই। স্রোতে সওয়ার প্রার্থীরা বিজয়-উৎসব নিয়ে বুঝেশুনে কথা বললেও, তাঁদের ঘনিষ্ঠেরা জানিয়ে দিচ্ছেন, কেউ দলের রঙের সঙ্গে মানানসই বস্তা বস্তা আবির বরাত দিয়ে রেখেছেন। কেউ দলের রঙের মিষ্টির বরাত দিয়েছেন। কয়েক হাজার ঢাকির বায়নাও করা হয়ে গিয়েছে কলকাতার একটি কেন্দ্রের প্রার্থীর তরফে। ভাঙড়ের খবর, সেখানে নির্দিষ্ট গান বাজানোর জন্য ইতিমধ্যেই বিরাট বিরাট সাউন্ড বক্স আনিয়ে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে কলকাতার এক দল আবার মনের মতো দল জিতলে দুর্গা মূর্তি নিয়ে রাস্তায় হাঁটবেন ভেবে রেখেছেন। এক দল আবার বাংলার সংস্কৃতির রূপ ফুটিয়ে তোলা ট্যাবলো সাজানো শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু, প্রকাশ্যে সকলেই বলছেন, ‘‘দাঁড়ান, আগে ফল কীহয়, দেখি!’’
এই পরিস্থিতিতে রাজনীতির বর্ণময় চরিত্র মদন মিত্র বলছেন, ‘‘কিছু তো একটা হবে। মারকাটারি রঙের কিছু একটা পরে নেব। আমাদের অবশ্য কেন্দ্রীয় ভাবেই বিজয় উৎসবের পরিকল্পনা হয়।’’ নানা কায়দার চশমার জন্য পরিচিত এই ভোটপ্রার্থী বললেন, ‘‘মদন মিত্রের ট্রেডমার্ক সকলেই জানেন। উৎসব সেই মতোই হবে।’’ ফিরহাদ হাকিম অবশ্য এখনই এ নিয়ে কিছু বলতে চান না। তাঁর মন্তব্য, ‘‘ছেলেরা সব ভোট গণনা নিয়েই ব্যস্ত। এত দিন খাটাখাটনির পরে ওরা যদি কিছু পরিকল্পনা করে, তাতে আমি আছি।’’ আর এক প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডে অবশ্য বলে দিলেন, ‘‘গত পরশু থেকে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর, কথা বলতে পারছি না। তবে, ৪ তারিখ ডিজে বাজবে, রবীন্দ্রসঙ্গীতও চলবে।’’
বিজেপির সজল ঘোষ বললেন, ‘‘যে কোনও উৎসবই ব্যক্তিগত পরিকল্পনার ফল। হেঁটে হেঁটে মানুষের কাছে যাব। এলাকায় হাঁটব। চরম খাটাখাটনির পরে আমার ছেলেরা সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ উদ্যাপনের যে পরিকল্পনাই করবে, তাতে আমি থাকব।’’ আর এক ভোটপ্রার্থী, বিজেপির তাপস রায় যদিও বললেন, ‘‘জয় ছাড়া আর কিছু নিয়েই এখন ভাবার সময় নেই। আমি দলের সৈনিক, দল যে পরিকল্পনা করবে, তাতে আছি।’’ বিজয়-উৎসব নিয়ে ভাবার সময় নেই বলে জানালেন বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত। তৃণমূলের প্রার্থী কুণাল ঘোষ অবশ্য বললেন, ‘‘ভোটের আগে প্রবল উস্কানি ছিল। ফল প্রকাশের পরে নিজেরা গন্ডগোল করে আমাদের উপরে দোষ চাপাতে পারে। উৎসবের পরিকল্পনার চেয়েও এই সব দিকে নজর রাখাই এখন প্রধান কাজ।’’
উৎসবে না থাকার কথা জানালেন ব্রাত্য বসুও। বললেন, ‘‘গত তিন বার জয়ী শংসাপত্র নিয়েই বাড়ি চলে গিয়েছি আমি। এ বারেও তা-ই করব। তবে, দলের ছেলেরা বাড়তি কিছু পরিকল্পনা করলে আমি থাকব।’’ দেবাশিস কুমারের দাবি, ‘‘আমার কাছে যে কোনও উৎসবই মানুষকে নিয়ে। মানুষ সারা বছর আমাদের মতো যাঁদের পাশে পেতেন, ৪ তারিখ ফল প্রকাশের পরেও তাঁদেরই পাবেন।’’ একই রকম মন্তব্য বাম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের। বললেন, ‘‘উৎসব নয়, অনেক কাজ বাকি। জনাদেশের পরে সেইকাজটাই চলবে।’’