বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্যে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এ রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা-নিগ্রহের অভিযোগ কম ওঠেনি সম্প্রতি। এ বার পর পর দু’দিন একই ধরনের অভিযোগ উঠল কলকাতার তেঘরিয়াতেও। ‘হেনস্থার’ শিকার দুই সংখ্যালঘু। আতঙ্কে রয়েছেন তাঁরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় থেকে অনেকে কলকাতা লাগোয়া এলাকায় ফল-আনাজ বিক্রি করতে যান। শনিবার তেমনই তেঘরিয়ায় লোকনাথ মন্দিরের কাছে রিকশা নিয়ে আনাজ বিক্রি করতে গিয়েছিলেন সাদ্দাম হোসেন নামে ভাঙড়ের জিরেনগাছার এক যুবক। তাঁর অভিযোগ, এক যুবক এসে বার বার তাঁর নাম-পরিচয় জানতে চায়। কার অনুমতি নিয়ে সাদ্দাম ওই এলাকায় আনাজ বিক্রি করছেন, প্রশ্ন করে। নাম, পরিচয় বলার পরেও সাদ্দামকে ‘বাংলাদেশি’ বলে হেনস্থা করা হয় বলে দাবি। সে সংক্রান্ত ভিডিয়ো ছড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে।
সাদ্দাম বলেন, ‘‘ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও কলকাতার বুকে যে ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, তা আগে কখনও হয়নি। এখানেও বাংলাদেশি বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে! এই রকম চললে আমাদের মতো গরিব মানুষ কী ভাবে ব্যবসা করবেন?’’ তবে সাদ্দাম থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। ওই যুবক স্থানীয় বাসিন্দা বলেতাঁর সন্দেহ।
ওই একই জায়গায় শুক্রবার ভাঙড়ের ভগবানপুরের গুছুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল ইসলাম ফল বিক্রি করতে গিয়ে একই রকম হেনস্থার শিকার হন বলে দাবি। স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার পেয়ারা বিক্রি করার সময়ে এক রিকশাচালক এনামুলকে চা খাওয়ান। ভোটে তৃণমূল জিতলে মিষ্টি খাওয়াবেন বলে এনামুলকে আশ্বাস দিয়ে, ওই রিকশাচালক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। ওই স্লোগান শুনে এক যুবক এসে রিকশাচালককে মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং এনামুলকে নিগ্রহ করে তাঁর নাম, বাবার নাম, ঠিকানা জানতে চায় বলে অভিযোগ। সে ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
এনামুলের দাবি, ‘‘আমার নাম শুনে কবে বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তা জানতে চায় ওই যুবক। ওকে বলি, আমি ভারতীয় এবং এ বার ভোট দিয়েছি। আঙুলে কালির দাগও দেখাই। তাতেও দমে না গিয়ে যুবক পাল্টা বলতে থাকে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বাংলাদেশের। আমাকে পাকিস্তান বা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।’’ এই গন্ডগোলের মাঝে পৌঁছয় পুলিশ। তারা ওই যুবককে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।