অনুমোদনহীন নেশামুক্তি কেন্দ্রে এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে। ইসরাফুল হক (২৬) নামে ওই যুবক উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার নয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির লোকের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে ওই কেন্দ্রে যুবককে মারধর করা হয়। তাঁর আর্তনাদ ঢাকা দিতে জোরে গান বাজানো হয়। শুক্রবার সকালে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে ইসরাফুলকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তখন আবাসিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। পুনর্বাসন কেন্দ্রের আসবাব ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এক সময়ে চক ভবানী এলাকায় চালু হওয়া ওই কেন্দ্র সেখানকার বাসিন্দাদের বিক্ষোভের পরে মাসখানেক আগে সরে আসে শহরের প্রাচ্যভারতী পাড়ার একটি ক্লাবঘরে। আবাসিক জনা ত্রিশ। ওই ক্লাবের সভাপতি তথা তৃণমূলের টাউন সভাপতি সুভাষ চাকী বলেন, ‘‘ব্যবসা করবে বলে সংস্থাটিকে ঘর ভাড়া দেওয়া হয়। ওরা নেশামুক্তি কেন্দ্র চালাবে, জানা ছিল না।’’ যদিও ওই ক্লাবের গায়েই পুর্নবাসন কেন্দ্রের সাইনবোর্ড ছিল, রাতে তা খুলে ফেলা হয়। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস বলেন, ‘‘নেশামুক্তি কেন্দ্রটি স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি ছাড়াই চলছিল।’’ যদিও কেন্দ্রের মালিক বিশ্বজিৎ নন্দী তা মানেননি।
ইসরাফুলের দাদা খাজিমুদ্দিন হক জানান, মাদকাসক্ত হওয়ায় তাঁরা ভাইকে হাজার দশেক টাকা দিয়ে ওই কেন্দ্রে রেখেছিলেন। বালুরঘাট হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দুবিকাশ বাগ বলেন, ‘‘যুবককে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। দেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কান দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল।’’ বিশ্বজিতের দাবি, ‘‘মারা হয়নি। মাদক প্রত্যাহারজনিত কারণে অসুস্থ হলে তাঁকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’’