• ভোট-পরবর্তী শান্তির বার্তা সব পক্ষেরই
    আনন্দবাজার | ০৩ মে ২০২৬
  • নির্বাচন মেটার পরে সম্ভাব্য জয়-পরাজয় নিয়ে নানা অঙ্ক কষা চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে। আর এরই মধ্যে ২০২১-এর বিধানসভা ভোট-পরবর্তী ‘সন্ত্রাসের স্মৃতি’র সূত্রে ফের একই রকম পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয় কি না, সেই আশঙ্কা রয়েছে নানা মহলে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উল্টো দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও শান্তির বার্তাই দিয়েছে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব দলকে তৎপর হওয়ার আর্জি জানিয়েছে সিপিএম।

    ভোটের প্রচার-পর্বে তৃণমূল ও বিজেপি, দু’পক্ষেরই শীর্ষ নেতৃত্ব ৪ মে ফলপ্রকাশের পরে কী হবে, তা নিয়ে নানা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নির্বাচনী-পর্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অত্যাচারে’র অভিযোগ তুলে ফলপ্রকাশের পরে ‘ডিজে বাজানো হবে’ বলে বার বার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সূত্রে ২০২১-এ তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে ‘সন্ত্রাস’ চালানোর অভিযোগ উঠেছিল, তা মনে করিয়ে দিচ্ছে বিরোধীরা। এরই মধ্যে শনিবার বিরোধী নেতা শুভেন্দু ২ মে, ২০২১-এর ‘অভিশপ্ত দিন’ স্মরণ করে ‘ভোট পরবর্তী হিংসার পঞ্চম বর্ষপূর্তিতে তৃণমূলের জেহাদিদের আক্রমণে আত্মবলিদানকারী ৫৭ জন বিজেপি কার্যকর্তার’ প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রচার-পর্বে তৃণমূলের ‘গুন্ডা’দের ফলপ্রকাশের পরে ‘উল্টো করে সোজা’ করার নিদান দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আবার তিনিই জানিয়েছিলেন, ভোটের পরে দু’মাস রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। এমন ‘উত্তপ্ত আবহে’ ফলপ্রকাশের পরে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকে সতর্ক নজর রয়েছে সব পক্ষেরই।

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিরোধী নেতা বলেছেন, “বাংলায় শান্তি বিরাজ করুক। সব ঠিক থাকুক। ভোট হয়ে গিয়েছে। গণনায় সবার আসা উচিত। জনতা জনাদেশ দিয়ে দিয়েছেন। সেটাই স্বীকার করা উচিত। গত ১৫ বছরে বাংলা বরবাদ হয়ে গিয়েছে। ২০২১-এ ভোট পরবর্তী হিংসা হয়েছিল।” সন্ত্রাস, হিংসায় নেতারা নন, সাধারণ মানুষই সমস্যায় পড়েন, তা মনে করিয়ে দিয়েই শুভেন্দু বলেছেন, “কোনও নেতার কিছু হয় না। আমার কাছে সিআরপি-র নিরাপত্তা আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এক-দেড় হাজার রাজ্য সুরক্ষা বলয় আছে। আমাদের কিছু হয় না। সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়। কার্যকর্তার উপরে আঘাত পড়ে।”

    তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ পাল্টা বলছেন, “প্ররোচনা ছড়ানোর আগে এগুলো মনে রাখা উচিত ছিল। ভোট পূর্ববর্তী প্ররোচনা যাঁরা দিয়েছিলেন, এখন তাঁরাই ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের কথা বলে কাঁদুনি গাইছেন! দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাড়ার গুন্ডাদের ভাষায় কথা বলেছেন।” তবে এর পরেও কুণালের সংযোজন, “আমরা শান্তি চাই। আমরা জানি, তৃণমূল জিতবে। মমতা দি’কে সরকার চালাতে হবে। তা হলে আমরা কেন অশান্তি চাইব?”

    সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘‘বাংলায় উৎসবের মেজাজে ভোট হত। তৃণমূলের জমানায় উৎসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে উত্তেজনা। এ বার প্রচার-পর্বে দু’পক্ষই যে যার মতো যথেচ্ছ উত্তেজনা তৈরি করছে। ফল ঘোষণার পরে রাজ্যের মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা যাতে নিরাপদ থাকেন, শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে, তার জন্য সব দলকেই তৎপর থাকতে হবে। সকলের কাছে আবেদন, প্ররোচনা ছড়াবেন না, প্ররোচনায় পা দেবেন না।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)