বাড়িতে চুরি হয়েছে বলে থানায় গিয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব এক পশু চিকিৎসক। কিন্তু মধ্যরাত পর্যন্ত বসিয়েও পুলিশ এফআইআর করেনি বলে দাবি। থানা থেকে অভিযোগের বয়ান বদল করতেও বলা হয়েছে বলে জানাচ্ছেন ওই চিকিৎসক। পুলিশ যদিও জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। এখনই প্রকাশ্যে কিছু জানানো সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট থানার এক তদন্তকারী অফিসার বলছেন, ‘‘অভিযোগের কয়েকটি দিক নিয়ে প্রশ্ন আছে। সেই কারণেই অভিযোগপত্রে কিছু সংশোধন করতে ডাকা হয়েছে।’’
অভিযোগকারী গৌতমপ্রসাদ সরখেল। ৭৪ বছরের গৌতম পশু চিকিৎসক। বর্তমানে দক্ষিণ দমদম পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর নব্বই বছরের দিদি দীপ্তি সান্যাল বিদেশে থাকেন। দক্ষিণ সিঁথিতে দিদির একটি বাড়ি তাঁর জিম্মায় রয়েছে। সেখানে তিনি কিছু দিন আগেও থাকতেন। এখন মাঝেমধ্যে গিয়ে দেখাশোনা করেন। ২৪ এপ্রিল তিনি শেষ বার সেখানে যান। গৌতমের দাবি, শুক্রবার বিকেলে গিয়ে দেখেন, বাড়ির দরজার তালা ভাঙা। আলমারি ভাঙা। সোনার গয়না এবং পঞ্চাশ হাজারের মতো টাকা উধাও।
এর পরেই তিনি সিঁথি থানায় অভিযোগ জানাতে যান। বৃদ্ধের কথায়, ‘‘অফিসার নেই বলে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। স্থানীয়দের থেকে তারা জেনেছে, কয়েকটি বাড়িতে চুরিও হয়েছে। রাত দেড়টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে শেষে অভিযোগপত্র নিয়েছে। কিন্তু অফিসার ইন-চার্জ নেই বলে এফআইআর করানো হয়নি। এ দিন ফোন করে ফের যেতে বলা হয়েছে। অভিযোগের বয়ান নাকি বদল করতে হবে।’’ কাজ থাকায় তিনি এ দিন যেতে পারবেন না বলে পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছেন। বৃদ্ধের দাবি, ‘‘বার বার থানায় গিয়ে বসে থাকা সম্ভব নয়। আরও কাজ রয়েছে।’’
গৌতমের আইনজীবী তপন বসু বলেন, ‘‘ছেলে এবং গাড়িচালককে নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে পুলিশের দ্বারস্থ হন গৌতমবাবু। বয়স্ক মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। অভিযোগের বয়ান বদলে সংক্ষেপ করতে বলা হচ্ছে। এ নিয়ে যত দূর যাওয়ার যাব।’’
সিঁথি থানা সূত্রে যদিও দাবি করা হয়েছে, যে বাড়িতে চুরি হয়েছে, সেটির মালিক বিদেশে। অভিযোগকারী যে ঠিক কথা বলছেন, সেটা আগে সব দিক থেকে খতিয়ে দেখে তবেই পদক্ষেপ করা হবে।