• দিনে ১০০ উড়ান বাতিল! জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বড় সিদ্ধান্ত এয়ার ইন্ডিয়ার, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
    প্রতিদিন | ০৩ মে ২০২৬
  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে সারা বিশ্বেই বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম যার প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিমানের জ্বালানির দাম বাড়ছে হুহু করে। তার জেরেই এক ধাক্কায় দৈনিক একশো উড়ান কম করার সিদ্ধান্ত নিল এয়ার ইন্ডিয়া। টাটার মালিকানাধীন এই উড়ান সংস্থা জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ১০০টি ফ্লাইট কমানো হবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক-দুই ধরনের রুটেই। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের যে অসুবিধা হচ্ছে তার জন্য এয়ার ইন্ডিয়া দুঃখিত।

    দিন কয়েক আগেই এটিএফ-এর মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েছিল উড়ান সংস্থাগুলি। তবে এবার তাদের তরফে পদক্ষেপের আগেই উড়ান কমানোর সিদ্ধান্ত। এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে উড়ান কমানো হচ্ছে। যাত্রীদের বুকিং সেই অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে। টিকিটের টাকাও ফেরত দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ফ্লাইট রিশিডিউল করা হবে। সংস্থার দাবি, যাত্রীদের যাতে কোনওভাবেই সমস্যা না হয় তা নিশ্চিত করতে গোটা ব্যবস্থাটি ‘যথাযথ ভাবে দেখভাল করা হবে’। একই সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে নতুন করে ভাড়া বাড়ানো হবে না। জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই টিকিটের দামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    শুক্রবার সংস্থার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন কর্মীদের উদ্দেশে এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় জানান, এপ্রিল ও মে মাসে কিছু ফ্লাইট কমানো হয়েছে। আগামী মাসগুলিতেও এই কাটছাঁট চলবে। তিনি কর্মীদের বলেন, “অনেকেই লক্ষ্য করবেন, আমরা এপ্রিল ও মে মাসে কিছু ফ্লাইট কমিয়েছি।” উইলসন আরও জানান, জেট ফুয়েলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধি, তার সঙ্গে আকাশপথ বন্ধ থাকা এবং দীর্ঘ রুটে উড়তে বাধ্য হওয়া- এই “সব মিলিয়ে আমাদের বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালানো অলাভজনক হয়ে পড়েছে।” তিনি জানান, খরচ সামাল দিতে ভাড়া বাড়ানো ও ফুয়েল সারচার্জ বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারও সীমা রয়েছে। উইলসনের কথায়, “আমরা ভাড়া বাড়িয়েছি এবং ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করেছি, কিন্তু এই বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। একটা সময়ের পরে মানুষ ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।”

    সংস্থার দাবি, জ্বালানির দামের উপর কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকায় প্রভাব কিছুটা কম হয়েছে। তবে দেশীয় পরিষেবাতেও চাপ পড়েছে। পরিস্থিতি যদি একই থাকে, তা হলে আগামী জুন ও জুলাই মাসে আরও ফ্লাইট কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া। এ প্রসঙ্গে সংস্থার প্রধান বলেন, “আকাশপথ ও জেট ফুয়েলের পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত কঠিন। আমাদের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই। জুন ও জুলাই মাসে আরও ফ্লাইট কমাতে হবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)