আমাদের মতো ছোট ছোট সম্প্রদায়কে খুঁজে বার করলে বুঝতে হবে দেশের অবস্থা ভাল নয়: মেইয়াং চ্যাং
আনন্দবাজার | ০৩ মে ২০২৬
পড়াশোনা চিকিৎসা নিয়ে। দন্তচিকিৎসক হিসাবে শুরু করেছিলেন কর্মজীবনও। তার পরে এক রিয়্যালিটি শো বদলে দিয়েছিল জীবনের মোড়। ডাক্তারি ছেড়ে গান গাওয়া শুরু করেন মেইয়াং চ্যাং। চিনা বংশোদ্ভূত মেইয়াং বাংলায় গান করেন। আসন্ন বাংলা ওয়েব সিরিজ় ‘তারকাটা’য় দেখা যাবে তাঁকে। অনেক দর্শকের মতে, তাঁর চেহারার মধ্যে রয়েছে সারল্য, মিষ্টি একটা ব্যাপার। কিন্তু সেই মেইয়াং এ বার দুষ্টু লোকের চরিত্রে! এমনিতেই বারতীয় সিনেমায় মঙ্গোলীয় চেহারার মানুষদের গতে বাঁধা কিছু চরিত্রেই বেশি দেখা যায়। সেই ধরনের অভিজ্ঞতা মেইয়াংয়েরও হয়েছে। পাশাপাশি, চেহারার গড়নের জন্য ঝামেলাও পোহাতে হয়েছে তাঁকে। তবে তাঁর দেশভক্তি নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি। আনন্দবাজার ডট কমের মুখোমুখি অভিনেতা, গায়ক ও সঞ্চালক মেইয়াং।
প্রশ্ন: রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ থেকে সিনেমার পর্দা— জীবনের এই সফরটা কেমন লাগছে?
মেইয়াং: আসলে আমার জীবনে এই ট্রানজ়িশনটা হতেই হত। আসলে লোকে জানে ‘বদমাশ কোম্পানি’ আমার প্রথম ছবি। কিন্তু অভিনয়ের যাত্রাটা আমার শুরু ২০০৮ সাল থেকে। সেখান থেকেই আমি ধারণা পাই একটা সিনেমা এবং একটা রিয়্যালিটি অনুষ্ঠানের শুটিংয়ের পার্থক্য সম্পর্কে। আসলে আমি এমন এক জন মানুষ যে অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত। আমি গান করেছি, অভিনয় করেছি, সঞ্চালনাও করেছি। লাইভ অনুষ্ঠানে কারও কি তেমন হাত থাকে, ভালমন্দ যা হয় মেনে নিতে হয়। আমি যখন রিয়্যালিটি শো করেছি তখন সব কিছু খুব নির্বিঘ্নে হত। শুধু তা-ই নয়, আমরা একাধিক ‘টেক’ নিতাম না। মোটামুটি একটা টেকেই গাইতে হত, যার ফলে সেই আবেগটা থাকত। সিনেমায় এসে বুঝেছি, এই মাধ্যমটা খুব সময়সাপেক্ষ, রিয়্যালিটি শোয়ের মতো চটজলদি কিছু হয় না। এ বার আমাকে একটা খারাপ লোকের চরিত্রে দেখা যাবে।
প্রশ্ন: ‘তারকাটা’ সিরিজ়ে এই খারাপ চরিত্রটার ঠিক কেমন?
মেইয়াং: আমার করা চরিত্রটার নাম ‘ডোডো’। আসলে এই চরিত্রটার মধ্যে কোনও ধূসর দিক নেই। পুরোটাই কালো। নিজেকে একেবারে পুরুষসিংহ মনে করে সে। নিজেকে ঈশ্বরের জায়গা বসিয়ে দিয়েছে। মানুষ খুন করে মজা পায়, কাউকে অত্যাচার করে সে মজা পায়। কিন্তু তার সাজগোজ সব কিছু খুবই অভিজাত। ‘ঈশ্বর সিনড্রোম’ রয়েছে, এমন একটা চরিত্র করতে পেরে দারুণ লেগেছে।
প্রশ্ন: দর্শকের চোখে একটা পাশের বাড়ির ছেলের মতো, একটা হাসিখুশি ভাবমূর্তি আছে। এমন নির্দয় চরিত্র কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে?
মেইয়াং: দেখুন, সবাই কিন্তু পেশি ফুলিয়ে নায়ক হতে চায়। নায়িকার সঙ্গে রোম্যান্স করতে চায়। আমিও চেয়েছিলাম সেটা করতে। কিন্তু আমার মনে হয়, ইন্ডাস্ট্রি এখনও আমাদের মতো অভিনেতাদের নায়ক বানাতে প্রস্তুত নয়। এটা শুধু মুম্বই ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা, তা নয়। আপনি তামিল, তেলুগু, কন্নড়, বাংলা, পঞ্জাবি যে কোনও ইন্ডাস্ট্রি দেখুন। সেখানে নায়ক হতে গেলে তাঁদের দর্শকের মনের মতোই কাউকে নায়ক করতে হয়। তবে আমার মতো দেখতে মানুষ যে সত্যি এতটা শয়তান হতে পারে, সেটা ফুটিয়ে তোলা চ্যালেঞ্জ ছিল আমার কাছে।
প্রশ্ন: কেরিয়ারের শুরুর দিক থেকেই কি তা হলে গতে বাঁধা চরিত্রে কাজ করতে হয়েছে?
মেইয়াং: হুমম। আমি কিন্তু অভিনয়ের প্রথাগত শিক্ষা পাইনি। যখন ‘বদমাশ কোম্পানি’-র প্রস্তাব আসে তখন অবাক হয়েছিলাম। আসলে আমার ভাষার দখল ছিল, উচ্চারণটা স্পষ্ট। সেই কারণে প্রস্তাবটা আসে। যদিও কেরিয়ারের শুরুর দিক থেকে শুধুই বন্ধুর চরিত্রের প্রস্তাব পেয়েছি। মাঝেমধ্যে এমন চরিত্র পেয়েছি যে, চিত্রনাট্যে মোড় ঘোরানো চরিত্র। কিন্তু নায়ক হিসেবে কেউ ভাবেননি। তাই কোন চরিত্রটা করব কোনটা করব না সেটা বেছে নিতে একটু সমস্যাই হচ্ছিল। যদিও গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে ধারণাটা বদলেছে। এখন খলচরিত্রের জন্য লোকে ডাকছে। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার আমি খলনায়কের ভূমিকায়। তবে খল হলেও ‘তারকাটা’-র ‘ডোডো’ চরিত্রটা একেবারে বাজে লোক। নির্দয়, নির্মম।
প্রশ্ন: ইদানীং উগ্র পৌরুষ, এক কোপে গর্দান নামাতে পারেন এমন নিষ্ঠুরতাই তো দেখানো হচ্ছে ছবিতে।
মেইয়াং: হ্যাঁ, এটা ঠিক বলেছেন। এই ধরনের ছবি এখন বেশি হচ্ছে। লোকেও দেখছে। কিন্তু যদি এক জন শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান, তা হলে বলতে পারি, খলচরিত্র করতে পেরে সব চেয়ে মজা পেয়েছি।
প্রশ্ন: আপনি কি বাংলায় কথা বলতে পারেন?
মেইয়াং: গান গাইতে পারলেও বাংলা কথা সে ভাবে পারি না। এই সিরিজ়ে আমি হিন্দি ও ইংরেজি সংলাপ বলেছি। পাশাপাশি, বাংলায় একটা বড় সংলাপ আছে। আমাকে বলা হয়েছিল, ভাষার যদি সমস্যা হয় ডাবিংয়ে ঠিক করে দেওয়া হবে। কিন্তু সেটা আমি করতে চাইনি। আসলে আমার মনে হয়, আগের জন্ম আমি বাঙালিই ছিলাম। ধানবাদে আমার বেড়ে ওঠা। কলকাতায় আমাদের চিনাদের একটা বড় সম্প্রদায় থাকে। কলকাতায় বহু বন্ধুবান্ধব আছে। এ ছাড়াও বাংলা সিনেমা ও বাংলা গান শুনি। আমার বাঙালি বন্ধুদেরকে খোঁচাতে থাকি, নতুন কোনও গান আসছে কি না, আমার উচ্চারণ স্পষ্ট হচ্ছে কি না! ওই ভাবেই ভাষাটা শিখেছি। প্রথম প্রথম বাংলাটা শিখতে কষ্টই হয়েছিল। তবে তেলুগুর চেয়ে বাংলা সংলাপ বলাটা সহজ। কারণ, আমি বাংলাটা বুঝতাম। তবে বাঙালি চরিত্র ফুটিয়ে তোলা খুব সোজা নয় কারণ, বাঙালিরা কিছু জিনিসে খুবই খুঁতখুঁতে।
প্রশ্ন: আপনি জানেন, আপনাকে নিয়ে একটা বিভ্রান্তি রয়েছে বাংলার দর্শকের মধ্যে, বিশেষ করে আপনার শিকড় নিয়ে?
মেইয়াং: একটু তো বিভ্রান্তি রয়েছে। আসলে আমার খুব কাছের বন্ধুরাও জানে না, কোথাকার লোক আমি। অনেকে আমাকে বাঙালি ভাবেন। কারণ ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর জন্য অডিশন দিয়েছিলাম কলকাতায়। আসলে আমি ধানবাদের লোক। তবে আমি আদতে চিনা সম্প্রদায়ের মানুষ। আমরা ইন্দো-চাইনিজ় সম্প্রদায়ের তৃতীয় প্রজন্ম। আমার মনে হয়, কাশ্মীর ও গুজরাত ছাড়া বাকি সব জায়গায় চিনারা ছড়িয়ে রয়েছেন। যদিও মানুষ আমাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের লোক ভাবে। কেউ ভাবে নাগাল্যান্ডের, কেউ ভাবে অসমের। কিন্তু একেবারে স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আমি চিনা সম্প্রদায়ের মানুষ।
প্রশ্ন: আপনি চিনে গিয়েছেন?
মেইয়াং: হ্যাঁ, ২০১৩ সালে আমি গিয়েছিলাম। কৌতূহলবশতই যাই। কারণ মালয়েশিয়া ও হংকং গিয়েছিলাম। এক বার মনে হল, যেখানে আমাদের পূর্বজরা রয়েছেন সেই জায়গাটা ঘুরে আসি। চিনে গিয়ে আমি একটা জিনিস বুঝেছিলাম। ভারতে যে তাদের একটা বড় সম্প্রদায় থাকে সেই বিষয়ে চিনের মানুষদের কোনও ধারণাই নেই। দেখুন চাইনিজ় খাবার কিংবা ভারতীয় চাইনিজ় খাবার সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। তা হলে মানুষগুলো সব জায়গায় থাকতে পারে না কেন? এই ধরনের চিন্তাভাবনা থেকেই মনে হয়, আমাদের উত্তরপূর্ব ভারত এতটা অবহেলিত। এটা একটা অদ্ভুত সমস্যা। আমাদের মতো দেখতে কাউকে প্রথমে দেখলেই লোকে ভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতের লোক। খুব অবাক লাগে এটা দেখলে।
প্রশ্ন: চিনা সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার দরুণ এ দেশে কোনও ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে?
মেইয়াং: হ্যাঁ, কোভিডের সময় সমস্যায় পড়তে তো হয়েছে। প্রচুর মানুষ সমাজমাধ্যমে বিষোদ্গার করেছে, যখন বাইরে বেরিয়েছি কাজের ক্ষেত্রে নানা কথা শুনতে হয়েছে। যেটা খুবই দুঃখজনক। আসলে কোভিডের সময় আমাদের নানা ভাবে প্রমাণ দিতে হয়েছে, আমরা চিনা বংশোদ্ভূত হলেও ভারতীয়। আমার ভাগ্য ভাল যে, আমার দেশপ্রেমকে এখনও পর্যন্ত প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হয়নি। তবে বার কয়েক বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছি। আসলে দেশে এমনিতেই অনেক বিষ রয়েছে। এ বার যদি আমাদের মতো ছোট ছোট সম্প্রদায়কে খুঁজে বার করা হয় তা হলে বুঝতে হবে, দেশের অবস্থা ভাল নয়।
প্রশ্ন: উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের চরিত্র রয়েছে মানেই হয় তাকে খলনায়ক হতে হবে, নয়তো জঙ্গি— এটাই কি ট্রেন্ড তা হলে?
মেইয়াং: আমি এই ধারণাটার বদল ঘটাতে চাই। যদিও আমি বিভিন্ন ধরনের চরিত্র করছি। তার পরেও বলছি, এর পরে হয় আমি পুলিশের চরিত্র পাব, নয়তো খলনায়কের চরিত্রই পাব। কিন্তু নায়কের চরিত্র দেওয়া হবে না। তবে এখন উত্তর-পূর্ব নিয়ে সিনেমা, সিরিজ় হচ্ছে। সেগুলো ভালই হয়েছে। কিন্তু এখনও সেখানকার লোকজন ততটা কাজ পান না। একটা কারণ হয়তো ভাষা। তবে অসমীয় বেশ কিছু ভাল অভিনেতা রয়েছেন যাঁরা হিন্দিতে কাজ করেছেন। ‘পাতাললোক’ ও ‘দ্য ফিমিলি ম্যান ৩’ দেখে খুব খুশি হয়েছিলাম। দুটোই নাগাল্যান্ডের পটভূমিকায় তৈরি। ওরা ভাষাটা বদলায়নি।
প্রশ্ন: অভিনেতা, গায়ক, না কি সঞ্চালক— নিজেকে কোন চরিত্রে বেশি দেখতে চান?
মেইয়াং: আমি সব সময় গান ও অভিনয়ের দিকেই মন দিয়েছি। কারণ, আমি মানুষটা খুব ইন্ট্রোভার্ট। সঞ্চালনা শুরু করার পর এত বেশি কথা বলা শুরু করি, মিশতে শুরু করি। তবে গান আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বাবার সঙ্গে গান শুনতাম, বোর্ডিং স্কুলে নিঃসঙ্গতা কাটানোর সঙ্গী ছিল গান।
প্রশ্ন: মুম্বইয়ে অভিনয় শিক্ষা নিচ্ছেন কারও কাছে?
মেইয়াং: আমি নীরজ কবির কাছে থেকে অভিনয় শিখেছি। এই মুহূর্তের ব্যস্ততম অভিনেতা সৌরভ সচদেবের বেশ কিছু অভিনয়ের ওয়ার্কশপ করেছি।
প্রশ্ন: আপনাদের সময়ের সঙ্গে ইদানীংকালের রিয়্যালিটি শোয়ের কী পার্থক্য?
মেইয়াং: খুব যে কিছু বদলেছে তেমনটা নয়। তবে সব কিছু আগের চেয়ে ঝাঁ চকচকে হয়েছে। সাউন্ড দুর্দান্ত হয়েছে। যার ফলে দর্শক অনুষ্ঠান দেখে আনন্দ পান। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ অন্যদের থেকে আলাদা। কারণ, ওখানে বিচারকেরা ভালকে ভাল বলেন, খারাপকে খারাপ। অনেক বিচারক বন্ধুর মতো। যদিও রিয়্যালিটি শোয়ে দুঃখের কাহিনি বলাটা এখনও বন্ধ হয়নি।
প্রশ্ন: ‘বদমাশ কোম্পানি’র সাফল্যের পরে কী বদল এল জীবনে?
মেইয়াং: পরিচালক যখন প্রস্তাবটা নিয়ে আসেন, আমি বলেছিলাম, ‘‘ধন্যবাদ, এই চরিত্রটার জন্য আমাকে ভেবেছেন। কিন্তু নায়কের বন্ধু হয়ে থেকে যেতে চাই না। ওই এক ধরনের চরিত্র করব না।’’ তখন পরিচালক আমাকে কথা দেন, ‘‘এই চরিত্রটা তেমন নয়।’’ যদিও এই ছবিটার পর একাধিক ছবিতে ওই একই চরিত্রেরই প্রস্তাব পেয়েছিলাম আমি। সেই সব প্রস্তাব ফেরাতে পেরেছিলাম। কারণ, আমার আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল তাই।
প্রশ্ন: ‘তারকাটা’-র পরিচালক শমীকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
মেইয়াং: শমীক হলিউডে বহু বড় ছবির ভিএফএক্স করেছে। সেটা আমাকে আকর্ষণ করেছিল। ওর কথাবার্তায় একটা বুদ্ধিমত্তা আছে। মুম্বইয়ে আমরা যে ভাবে কাজ করেছি সেটার সঙ্গে কলকাতায় কাজের আকাশ-পাতাল তফাত। কিন্তু শমীক এটা জেনে সবটা মাথায় নিয়ে কাজে আসে। ভীষণ তৈরি এক জন পরিচালক।
প্রশ্ন: বিক্রমকে সহ অভিনেতা হিসেবে কেমন লেগেছে?
মেইয়াং: আমি এখানে বুম্বাদা, দেব ও যিশুদা ছাড়া আর কাউকে চিনতাম না। কিন্তু বিক্রমকে গুগল করতে গিয়ে খুঁজে পাই। ওঁর প্রথম সিরিয়ালের গান গেয়েছিল আমার বন্ধু মোনালি ঠাকুর। বিক্রম এই সিরিজ়ে অভিনেতা ও প্রযোজক। তাই ওঁর দায়িত্ব অনেক বেশি ছিল। আমরা দু’জনে মিলে গান বানিয়েছি। রাতের শুটের পর সকাল সকাল জলখাবার খেতে বেরিয়ে পড়েছি, এমন দিনও গিয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার সঙ্গে কলকাতার যোগের অন্যতম কারণ কি মোনালি?
মেইয়াং: হ্যাঁ, ঠিকই। মোনালি ও আমি দু’বছর সম্পর্কে ছিলাম। তার পরে ভালবাসা ফুরিয়ে গেল, সম্পর্ক থাকল না। যদিও একসঙ্গে অনুষ্ঠান করতাম। একটি রিয়্যালিটি শো করেছি, যেখানে ও বিচারক ছিল, আমি সঞ্চালক। ব্যস, এই পর্যন্তই।