• ‘বহুরূপী’র জন্মদিনে নবরূপে ৩৮ বছর আগের নাটক, স্মৃতিচারণে দলের প্রবীণ অভিনেতা
    আনন্দবাজার | ০৩ মে ২০২৬
  • বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে অন্যতম অগ্রণী নাট্যদল ‘বহুরূপী’। ১৯৪৮ সালে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ থেকে বেরিয়ে এসে শম্ভু মিত্র, তৃপ্তি মিত্র, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় এই নাট্যদল। ৭৮ বছরের জন্মবার্ষিকীতে বিশেষ আয়োজন নাট্যদলের। ‘বহুরূপী’র নাট্যগুরু কুমার রায়েরও এ বছর জন্মশতবর্ষ পূর্ণ হল। তাঁকে স্মরণ করেই এ দিন মঞ্চস্থ হল ১৯৮৮ সালে মঞ্চস্থ হওয়া নাটক-‘কিনু কাহারের থেটার’। ১ মে অ্যাকাডেমিতে বিশেষ দিনটি উদ্‌যাপনের শুরুতেই ‘বহুরূপী’ পত্রিকার ১৩৮তম সংখ্যা প্রকাশ পেল। প্রকাশ করলেন প্রাবন্ধিক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পত্রিকার সম্পাদক তীর্থঙ্কর চন্দ।

    মনোজ মিত্রের নাটক ‘কিনু কাহারের থেটার’ এ দিন পুনর্মঞ্চায়ন করা হয়। নাটকটির নবরূপের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিন থেকে তিনি এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রথম দিন থেকেই এই নাটকের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮৮ সালে প্রথম এই নাটক মঞ্চস্থ হয়। পাঁচ-ছয় বছর পরে প্রযোজনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০০০ সালের পরে এক বার মঞ্চস্থ হয়েছিল। মুখ্য চরিত্রে ছিলেন তারাপদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার জন্য ফের বন্ধ হয়ে যায়। এ বছর যেহেতু কুমার রায়ের জন্মশতবর্ষ, আমরা তাই আবার নতুন করে এই নাটকটা সাজিয়েছি। প্রথম দিন যাঁরা অভিনয় করেছিলেন তাঁদের মধ্যে আমি ছাড়া আর কেউ নেই। স্যরের পরিচালনায় ঠিক যে ভাবে হয়েছিল, সবটা অবিকল রাখার চেষ্টা করেছি আমরা।’’

    এই সাড়ে তিন দশকে দর্শকের ভাবনায় বদল এসেছে। বদলে গিয়েছে নাটকে অভিনয়ের ধরনও। তবু এত বছরর পুরনো নাটক আজও প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করেন সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যোগ করেন, ‘‘এখানে যাঁরা অভিনয় করছেন তাঁরা নিজেদের মতো করে কিছুটা আধুনিক করেছেন। একেবারে কাঁচামাটি ওরা, তাই আমি যতটা পেরেছি শিখিয়েছি। তার পর ওঁরা কিছুটা ইম্প্রোভাইজ় করেছেন। সংলাপগুলো কৌতুকরসে পরিপূর্ণ। তবে নাটকের গান এবং সুরে কোনও বদল আনা হয়নি।’’

    নতুন প্রজন্ম কতটা নাটকে আগ্রহী আজ? এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘‘এখন আগ্রহ অনেক কমে গিয়েছে। নতুন অভিনেতাদের থিয়েটারে যোগ দেওয়াও কমে গিয়েছে। পড়াশোনার দিকটাও অনেক বদলেছে। অনেকেই বাইরে চলে যাচ্ছে পড়তে। আর তার পরে চাকরি করেন অনেকে। থিয়েটারের দর্শকও অনেক কমেছে। আসলে একটা প্রযোজনা করতে অ্যাকাডেমিতে ৩৫ হাজার টাকা খরচ। টিকিট বিক্রি করে ওই টাকা ওঠে না। স্যরই আমাদের শিখিয়েছেন, যাতে কম পয়সার টিকিট দিয়ে সাধারণ মানুষকে নাটক দেখাতে পারি। এখনও তাই নিজের পকেটের পয়সা দিয়েই করে চলেছি। সরকারি সাহায্যও যে খুব পাওয়া যায় তা নয়। আমি নাট্যকর্মী হিসাবে আমি ২৩ বছর থেকে কাজ করছি। তখন নাটক ছিল প্যাশন।’’

    তিনি বললেন, ‘‘আর একটি দিক অবশ্যই বলব। ‘বহুরূপী’-তে কাজ করার জন্য আজ পর্যন্ত আমরা কোনও পারিশ্রমিক পাইনি। আজ যাঁরা অভিনয় করছেন তাঁরাও কেউ পারিশ্রমিক নিচ্ছেন না, শুধু ভালবেসেই করছেন। আর আমরা বাইরের শিল্পীদের দিয়ে অভিনয় করাই না। নাটকের প্রযুক্তির দিকের কাজও আমাদের দলের লোকজনই করছেন। আমরা এখনও ধরে রেখেছি, কতদিন পারব জানি না।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)