সমাজমাধ্যমে নানা সময় নানা কারণে কটাক্ষের শিকার হন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। তিনি সেসবকে আর পাত্তা দেন না। কিন্তু সম্প্রতি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর প্রিয়াঙ্কা সরকারকে নিয়েও এই কঠিন সময়ে অনেকে উল্টোপাল্টা মন্তব্য করেছেন, বিদ্রুপ করেছেন। এবার সেইসব ট্রোলারদের পাল্টা জবাব দিলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়।
এদিন 'এরাও মানুষ' ছবিটির শুটিং শেষ করে বেরিয়ে তিনি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার প্রসঙ্গে কথা বলেন। কথা ওঠে প্রিয়াঙ্কা সরকারকে সমাজমাধ্যমে যেভাবে কটাক্ষ করা হচ্ছে সেই প্রসঙ্গও। তাতেই হাসিমুখে ট্রোলারদের পাল্টা জবাব দিলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। বললেন, "যাঁরা এগুলো করছেন তাঁদের মস্তিষ্কের প্রবলেম এগুলো। প্রিয়াঙ্কা আমার খুব পছন্দের। ওর সঙ্গে আমার একটা কাজ হয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেটা মুক্তি পায়নি। এত মিষ্টি একটা মেয়ে, এত শক্তিশালী... একটা সন্তানের মা। একজন মাকে কতটা শক্ত থাকতে হয় এক থাকার জন্য সেটা সকলে বোঝেন না। লোকে বলতে চাইলে বলবে অনেক কিছু। কিন্তু একজন মা জানে সে কীভাবে সন্তানকে মানুষ করে। বড় করে। আমার মনে হয় না প্রিয়াঙ্কা এগুলোকে পাত্তা দিচ্ছে বলে।"
তাঁর আরও সংযোজন, "লোকেরা বলবেই। অনেক মহিলারা এসব লেখেন যাঁরা নিজেরা মা। কিন্তু বাড়িতে রান্না করার পর আর কোনও কাজ নেই। মনে হয় লোককে নিয়ে একটু নিন্দে করি। তাঁর জীবন না জেনে নিজের ফ্রাস্ট্রেশন অন্যের উপর দিই। এগুলো কী করা যাবে? তাঁদের তো অন্য কাজ নেই। আমাদের ভিডিও শেয়ার করেই তো ঘরে একটু টাকা পয়সা আসছে, মাছের ঝোলটা রান্না করে খাচ্ছে। ঠিক আমরা নাহয় ওদের একটু সাহায্যই করছি।"
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি হাতড়ে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় বলেন, "রাহুলদার শেষ ছবি 'এরাও মানুষ'। আমার মনে হয় না রাহুলদাকে এর আগে এমন কোনও চরিত্রে দেখা গিয়েছে বলে। রাহুলদাকে অন্য রকম ভাবেই পাবে সবাই। সেগুলোই মনে পড়ছে। আউটডোরে আমরা অনেকদিন শুটিং করেছি। আর হয় না, আউটডোরে শুটিং করলে একটা ছোট পরিবার মতো হয়ে যায় টিমের সকলে। মনে হচ্ছে রাহুলদা আমাদের মধ্যেই আছে। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারি না। মাঝে মধ্যে মনে হয় উনি বেঁচে আছেন এখনও। এগুলোই স্মৃতি। উনি অমর হয়ে থাকবেন ছবির মাধ্যমে। এই ছবিটা ওঁর সঙ্গে শেষ কাজ, আফসোস একটাই হিরো, হিরোইন হওয়া হল না।"