প্রত্যাশা পূরণের চাপই ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দেয়: আবীর চট্টোপাধ্যায়
এই সময় | ০৩ মে ২০২৬
অন্য সময় প্রাইম: চার বছর পর বড় পর্দায় সোনাদা ফিরছে, এ বার কি সে সংসারী?
আবীর: একদমই নয়, ওসব ঝিনুক, আবীরের মশকরায় কান দেবেন না। একটা কথা কিন্তু ঝিনুক আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সে সোনাদার জীবনে কাউকে দেখতে চায় না।
অন্য সময় প্রাইম: আবীর চট্টোপাধ্যায়ের ছবিতে নায়িকা নিয়ে এত টানাপড়েন কেন?
আবীর: এটা সত্যি একটা দারুণ কথা। বেশিরভাগ ছবিতে হয় তেমন ভাবে নায়িকাদের সঙ্গে আমার মিল থাকে না অথবা নায়িকা থাকে না। এ যে কী বিড়ম্বনা (হাসি)। তবে এখন এই অভিযোগে করব না, গত কয়েক বছর অবশ্য নায়িকা থাকছে। একটু অন্য ভাবে হলেও থাকছে।
অন্য সময় প্রাইম: সোনাদা বড়দের সঙ্গে-সঙ্গে ছোটদেরও খুব প্রিয় চরিত্র হয়ে উঠেছে। আপনার মেয়ের কাছে সোনাদা ঠিক কেমন?
আবীর: ও যে খুব একটা বুঝতে পারে তা নয়। কারণ বাকিদের থেকে ওর বোঝার ধরন খানিকটা আলাদা। সেটা নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না। তবে হ্যাঁ, ছোট-বড় সবার কাছ থেকেই এক রকম রিঅ্যাকশন পেয়ে এসেছি। এতগুলো বছর পরে মনে হয়, সোনাদা ভীষণ সফল।
অন্য সময় প্রাইম: একটা সাকসেসফুল ফ্রাঞ্চাইজ়ি, প্রতিবার নিজের কাছে কতটা চাপ বাড়ায়?
আবীর: প্রত্যাশা পূরণের চাপটাই তো ভালো কিছু করার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। ওটাকে ঠিক চাপ বলব না। অনুপ্রেরণাই বলব। আসলে সত্যিই সোনাদা দর্শকদের ভীষণ পছন্দের একটা চরিত্র। প্রতিবার মনে হয় সেই ফ্লেভারটা ধরে রাখার জন্য যতদূর সম্ভব আমি যেতে রাজি।
অন্য সময় প্রাইম: আপনার সবথেকে পছন্দের ডিটেক্টিভ চরিত্র কোনটা?
আবীর: নিঃসন্দেহে ব্যোমকেশ সবথেকে পছন্দের ডিটেক্টিভ চরিত্র। ওটা আমার কাছে একটা আবেগ।
অন্য সময় প্রাইম: সুন্দরবনের দুর্গম জায়গায় শুটিং করেছেন আপনারা। সম্প্রতি শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে ঝড় উঠেছে। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আপনার মনে হয়?
আবীর: আমাদের ছবির শুটিং হয়েছে সুন্দরবনে। পরিকল্পনাটা যেহেতু প্রথম থেকেই ছিল, তাই সব রকম সেফটি সিকিউরিটির কথা মাথায় রাখা সম্ভব হয়েছে। পরিকল্পনা স্পষ্ট থাকাতেই সুবিধে হয়েছে। আবার পরিস্থিতির প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় বদলও করে ফেলা গিয়েছে। শুটিংয়ের মাঝে এমনও হয়েছে যে, কোনও একটি জায়গা নির্ধারিত ছিল শুটিংয়ের জন্য, কিন্তু সেখানে বিপদ হতে পারে জেনে জায়গাটাই বদলে ফেলা হয়েছে। সুন্দরবন তো এমনিই খুব একটা শুটিং ফ্রেন্ডলি জায়গা নয়। তাই এই পুরো কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা এই বিষয়ে চরম পারদর্শী। তবে এ ক্ষেত্রে আমি একটা কথা বলব, দায়িত্বটা কিন্তু আমাদেরও কিছুটা। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আমরা শুটিং করতে গিয়েছি। কাজে ওটাই করব। এ রকম অনেকেই আছেন যাঁরা এই বিষয়টা মাথায় রাখেন না। বেশি পাকামো করে লাভ নেই।
অন্য সময় প্রাইম: শুটিং করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কোন দিকগুলো দেখে নেওয়া সম্ভব? আর কোনটা নয়?
আবীর: সবার আগে প্রয়োজন পরিকল্পনার। আমরা আসলে এই বিষয়টাতেই এখন জোর দিচ্ছি, কারণ শুটিং পদ্ধতি আগেকার মতো নেই। আমাদের ভিএফএক্স–ও যথেষ্ট উন্নত। এমন অনেক দৃশ্যের ক্ষেত্রে আমরা ভিএফএক্স-এর ব্যবহার করতে পারি। একটা ফরম্যাট থাকলে সকলেরই সুবিধা। সেই কারণেই এসওপি-টার দরকার।
অন্য সময় প্রাইম: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি নিয়ে কী বলবেন?
আবীর: এটা নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাই না, কারণ এটা আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি বলে আমি মনে করি। রাহুল শুধু আমার কলিগ ছিল না, পরিবারও ছিল। যে কারণে আজ ইন্ডাস্ট্রির সকলে ন্যায়বিচার চাইছেন, সেটা বলতে গেলে এখনও গলা কাঁপছে। আমরা শুধু আশাই করতে পারি এবং চেষ্টা করতে পারি।