• ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে খাবারের দাম! বাণিজ্যিক গ্যাসের বিপুল দামবৃদ্ধিতে বিপাকে হোটেল-রেস্তরাঁ
    আনন্দবাজার | ০৩ মে ২০২৬
  • বাণিজ্য‍িক সিলিন্ডারের দাম একলপ্তে প্রায় ১০০০ টাকা বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি সমস‍্যায় পড়েছে ছোট-মাঝারি হোটেল, রেস্তরাঁগুলি। ছোট ব‍্যবসায়ীদের দাবি, পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে ব্যবসা না বন্ধ করে দিতে হয়। টিকে থাকতে তাই খাবারের দাম কমপক্ষে ১২%-১৫% বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন হোটেল-রেস্তরাঁগুলির মালিকদের বড় অংশ। কোনও-কোনও ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার হতে পারে ২০% পর্যন্ত। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার কলকাতায় ১৯ কেজির এই সিলিন্ডারের দাম ৯৯৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩২০২ টাকা। দেশের সব শহরেই দর পেরিয়েছে ৩০০০ টাকার গণ্ডি।

    হোটেল-রেস্তরাঁগুলির পূর্বাঞ্চলীয় সংগঠন এআইআরএইআই-এর সভাপতি সুদেশ পোদ্দারের মতে, ‘‘বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের এই রেকর্ড বৃদ্ধি ব্যবসার উপরে বিরাট প্রভাব ফেলবে। সব খাবারের দাম বৃদ্ধি ছাড়া আর কোনও গতি নেই। এর আগে যত বার গ্যাসের দাম বেড়েছে, তা প্রভাব ক্রেতাদের উপরে পড়েনি। আমরাই বোঝা বয়েছি। কিন্তু এ বার তা সম্ভব নয়। খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া পথ খোলা নেই।’’ এখন বাণিজ্যিক গ্যাসের দর যেখানে পৌঁছেছে, তাতে খাবারের দামের ১০%-১৫% বৃদ্ধি প্রায় অবশ্যম্ভাবী বলে জানাচ্ছেন ফেডারেশন অব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ‍্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সহ-সভাপতি প্রদীপ শেট্টি। এই বৃদ্ধিও যথেষ্ট নয় জানিয়ে তাঁর দাবি, “গত তিন-চার মাসে বাণিজ‍্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৩৩৩ টাকার মতো বেড়েছে। ফলে আমাদের খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে।” যে কারণে রেস্তরাঁগুলির সুরাহায় হস্তক্ষেপ করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যাতে দাম খুব বেশি হেরফের না হয়।

    কলকাতায় জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বেড়েছে ১৫২০ টাকা। যা কার্যত ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি বলেই দাবি হোটেল মালিকদের। ন‍্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ‍্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার কলকাতা শাখার প্রধান পীযূষ কনকারিয়াও এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দাবি, এটা গোটা ক্ষেত্রের উপর অত‍্যন্ত বড় আঘাত। পরিস্থিতি বদলাতে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় গোটা হোটেল-রেস্তরাঁগুলি দৈনন্দিন কাজ চালাতে সমস্যার মুখে পড়বে। সরকারকে তাঁদের অবস্থার কথা খুলে জানানোর কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুদেশও। হোটেল মালিকদের অনেকেই এই নিয়ে বিক্ষোভের কথা বলছেন। কারণ, এমনিতেই বর্তমানে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার চাহিদার ৭০% দেওয়া হচ্ছে। তার উপর এই দাম বৃদ্ধি সমস‍্যা আরও জটিল করে তুলেছে।

    কলকাতা বা সংলগ্ন এলাকায় এখনও বিক্ষোভ না হলেও কেরলে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন হোটেল ও রেস্তরাঁ মালিকেরা। এ ভাবে বার-বার দাম বৃদ্ধির কারণে ব্যবসা চালানো সমস্যার হয়ে পড়ছে বলে দাবি তাঁদের। ৬ মে এ নিয়ে রাজ‍্যে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সে দিন সব হোটেল-রেস্তরাঁ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করা হবে। যদিও তেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানো নিয়ে মন্তব্য না করা হলেও, জোগান যথেষ্ট রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তেল সংস্থা সূত্রের খবর, এই দাম বাড়ানোয় কেন্দ্রের হাত নেই। দু’মাস ধরে যে ভাবে সারা বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট চলছে, তাতে সামনে কোনও বিকল্প ছিল না। তবে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে আপাতত গৃহস্থের সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়নি।

    এমন পরিস্থিতিতে অবশ্য মোদী সরকারকে নিশানা করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নির্বাচনের খরচ তুলতেই এই রেকর্ড দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। এতে ছোট ও মাঝারি হোটেল, রেস্তরাঁ, ধাবা, চায়ের দোকান, বেকারি, মিষ্টির দোকানগুলি প্রবল সমস‍্যায় পড়বে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)