ভোটগণনায় অশান্তির আশঙ্কা! স্কুল বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ শিক্ষকদের একাংশ
আনন্দবাজার | ০৩ মে ২০২৬
বিধানসভার ভোটগণনা ৪ মে। বেলা ১২টার পর থেকেই বোঝা যেতে শুরু করবে কোন দিকে গড়াচ্ছে ফলাফল। তাই ওই দিন রাজ্যের সব স্কুল বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষকেরা।
শিক্ষকদের একাংশের দাবি, গণপরিবহণের অভাব তো বটেই তাঁরা আশঙ্কিত পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়েও। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে মোটের উপর শান্তিপূর্ণ কেটেছে দু’দফার ভোট। কিন্তু রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার ইতিহাসই ভাবাচ্ছে শিক্ষকদের। ভোটগণনার দিন জেলায় জেলায় কোনও অশান্তি ছড়ালে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা সংলগ্ন এক জেলার শিক্ষক বলেন, ‘‘বিভিন্ন স্কুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষকেরা রয়েছেন। কোনও কোনও শিক্ষক এতই সক্রিয় যে তাঁরা অন্য দলের বিরাগভাজন। সে স্কুল চলাকালীন ভোটের ফল ঘোষণা হতে শুরু করলে তাঁদের উপর আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।” এরই সঙ্গে রয়েছে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার বিষয়টিও।
শনিবার শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবকে ৪ মে স্কুল বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই। তাঁর দাবি, যানবাহন কম থাকায় পড়ুয়া ও শিক্ষকদের স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা হবে। তার উপর অবাঞ্ছিত কোনও পরিস্থিতি তৈরি হতেই পারে যে কোনও সময়।
এ বিষয়ে একমত বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি। সংগঠনে সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “ভোট গণনার সময় শিক্ষকদের উপর আক্রমণের ইতিহাস এ রাজ্যে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট পরিচালনা করলেও গণনার দিন যদি কোনও স্কুলে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায় তা হলে তা আটকানো মুশকিল হতে পারে। সকলের নিরাপত্তার স্বার্থেই ওই দিন সব স্কুল বন্ধ থাকা উচিত।’’ জানা গিয়েছে, কোনও কোনও জেলায় প্রাথমিক স্তরে বিক্ষিপ্ত ভাবে সকালে স্কুল চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে এই মুহূর্তে তাঁদের হাতে প্রশাসনিক দায়িত্ব নেই। যা করার করবে নির্বচন কমিশন। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফেও স্কুল বন্ধ রাখার কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি শনিবার বিকেল পর্যন্ত।