• কাঁচা চা পাতার দাম তলানিতে, চিন্তায় চোপড়ার ক্ষুদ্র চাষিরা
    বর্তমান | ০৩ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, চোপড়া: চোপড়া ব্লকের ক্ষুদ্র চা চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। আচমকাই কাঁচা চা পাতার দাম তলানিতে ঠেকেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এই মন্দার জেরে বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার চাষি। যদিও শনিবার থেকে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে, তবে তাতে দুশ্চিন্তা কাটছে না। চাষিদের সাফ কথা, যে দামে পাতা বিক্রি হচ্ছে, তাতে বাগান রক্ষণাবেক্ষণ তো দূর, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহণের খরচটুকুও উঠছে না। তিনমাইলের প্রবীণ চাষি মধুসূদন সরকার ও রাকেশ রায়ের গলাতেও একই সুর। তাঁরা জানান, গত ২৬ এপ্রিলের পর থেকে দাম হু-হু করে কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই বাগান থেকে পাতা তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। চাষিদের আশঙ্কা, এই অবস্থা আর কয়েকদিন চললে কাঁচা পাতা ছেঁটে ফেলা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।
    দাসপাড়ার চাষি রিয়াজুল ইসলামের অভিজ্ঞতা আরও তিক্ত। তাঁর ৫ বিঘা বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার কিছুটা দাম বাড়লেও এখন সরাসরি কারখানায় দিয়ে কেজি প্রতি ১৩-১৪ টাকা পাচ্ছি। আর ব্রোকারের হাত দিয়ে দিলে ১২ টাকার বেশি জোটে না। অথচ গত ফার্স্ট ফ্লাশের সময় এই পাতাই ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখন সেই দর ১০-১২ টাকায় নামায় দিশাহারা অবস্থা চাষিদের।

    চোপড়া স্মল টি প্ল্যান্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক পার্থ ভৌমিকের মতে, অতিরিক্ত জোগানই দাম কমার মূল কারণ। তাঁর বিশ্লেষণ, ভোটের ফল ঘোষণার পর অশান্তি হতে পারে এই আশঙ্কায় চাষিরা দ্রুত বাগান থেকে পাতা তুলে ফেলতে চাইছেন। ফলে বাজারে হঠাৎ জোগান অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে আকিব রেজার মতো চাষিরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, কারখানাগুলি ইচ্ছা করে কম পাতা কিনছে। যে কারখানার দৈনিক ৮০ টন পাতা নেওয়ার ক্ষমতা আছে, তারা অর্ধেক পাতা কিনছে।

    কারখানা মালিকদের একাংশের দাবি, ভোটের সময় কারখানা কয়েকদিন বন্ধ ছিল। তার উপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও আবহাওয়া ঠিক না থাকায় প্রক্রিয়াকরণ ব্যাহত হয়েছে। এই অবস্থায় হু-হু করে জোগান বাড়লে সেই চাপ সামলানো সম্ভব নয়। তবে ক্ষুদ্র চা পাতা ব্যবসায়ী তৌসিফ আলমের কথায় আশার আলো রয়েছে। তিনি জানান, শনিবার গত এক সপ্তাহের তুলনায় বাজার দর কিছুটা বেড়েছে। ১৩-১৪ টাকা দরে পাতা কেনা চলছে এবং আগামী দিনে দাম আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।

    উল্লেখ্য, শুধু চোপড়া ব্লকেই প্রায় ২০ হাজার ক্ষুদ্র চাষি রয়েছেন। জেলায় ৫৬টি বটলিফ কারখানা থাকলেও চাষি ও মালিক পক্ষের টানাপোড়েনে আপাতত অনিশ্চয়তার মেঘ চা বলয়ে।
  • Link to this news (বর্তমান)