এই সময়: কর্মীরা যাতে তাঁদের অবসরকালীন সঞ্চয় সহজে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তুলতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে চলেছেন এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজে়শন (ইপিএফও) কর্তৃপক্ষ। অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীরা তাঁদের পুরোনো এবং অচল প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করে তাতে গচ্ছিত আমানত তোলা নিয়ে সমস্যায় পড়েন। অচল অ্যাকাউন্ট ফের সক্রিয় করতেও নাজেহাল অবস্থা হয়। এই ঝক্কি দূর করতে শীঘ্রই একটি নতুন ওয়েব পোর্টাল—ই-প্রাপ্তি চালু করতে চলেছেন ইপিএফও কর্তৃপক্ষ। বুধবার এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য।
এ দিন মন্ত্রী বলেন, ‘আধার-ভিত্তিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পোর্টাল পুরোনো পিএফ অ্যাকাউন্টে সহজেই প্রবেশাধিকার দেবে, এমনকী যে সমস্ত পিএফ অ্যাকাউন্টে ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) নেই, সেগুলিও পুনরুদ্ধার ও আপডেট করা সম্ভব হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ থেকে প্রতিটি কর্মী সদস্যকে ১২ সংখ্যার একটি ইউনিক ইউএএন দেওয়া শুরু করে ইপিএফও। কিন্তু, তার আগের বহু অ্যাকাউন্ট এখনও অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা উদ্ধার করা খুব একটা সহজ নয়। নতুন পোর্টাল ‘এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড আধার-বেসড অ্যাকসেস পোর্টাল ফর ট্র্যাকিং ইনঅপারেটিভ অ্যাকাউন্টস’ বা ই-প্রাপ্তি সেই সমস্যার সমাধান করবে।
প্রথমে ইপিএফও-র কর্মী সদস্যদের আইডি দিয়ে এই পোর্টালে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হবে। নিরাপত্তা বজায় রেখে ধাপে ধাপে পরিষেবা সম্প্রসারণ করাই এর মূল লক্ষ্য। যে সমস্ত সদস্য পুরোনো আইডি মনে করতে পারছেন না বা তার অ্যাকসেস পাচ্ছেন না, তাঁদেরও ভবিষ্যতে এই পরিষেবার আওতায় আনা হবে।
এই ডিজিটাল উদ্যোগ এক দিকে যেমন কাগুজে, ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার ঝামেলার হাত থেকে সদস্যদের বাঁচাবে, তেমনই পুরো ব্যবস্থাই অনেক বেশি স্বচ্ছ ও দক্ষ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইপিএফও-র পরিষেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার কী ভাবে কর্মী সদস্যদের সুবিধে বাড়িয়েছে, তা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে প্রমাণিত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড ৮.৩১ কোটি দাবির নিষ্পত্তি করেছে ভবিষ্যনিধি সংস্থাটি। গত বছরে ৬.০১ কোটি দাবি নিষ্পত্তি করেছিল ইপিএফও। গত অর্থবর্ষে মোট যত দাবির নিষ্পত্তি হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৫.৫১ কোটি আগাম বা আংশিক টাকা তোলার দাবি ছিল। অর্থাৎ, প্রয়োজনে ইপিএফও-র সদস্যরা সহজেই নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা হাতে পাচ্ছেন।
পিএফ-এর টাকা আগাম তোলার যত আবেদন জমা পড়েছিল, তার ৭১.১১ শতাংশ মাত্র তিন দিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে দেখা গিয়েছে। প্রায় ৬.৬৮ কোটি সদস্য চেক লিফ আপলোড না করেই দাবি জমা দিতে পেরেছেন। আবার ১.৫৯ কোটি সদস্য নিয়োগকর্তার অনুমোদন ছাড়াই তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পিএফ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগ করতে সক্ষম হয়েছেন। এমনকী এক পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য পিএফ অ্যাকাউন্টে আমানত ট্রান্সফারের ৭০.৫৫ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তিও স্বয়ংক্রিয় ভাবে হয়েছে, যেখানে নিয়োগকর্তা বা সদস্যের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়নি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ২৯.৩৪ লক্ষ সদস্য নিজেরাই নিজেদের প্রোফাইল সংশোধন করে সরাসরি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পেরেছেন। সে ক্ষেত্রে ইপিএফও-র অফিস বা নিয়োগকর্তার দ্বারস্থ হতে হয়নি তাঁদের।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই ৬১.০৩ লক্ষ দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশ আগাম টাকা তোলার আবেদন স্বয়ংক্রিয় ভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯৮.৭০ শতাংশ দাবি ২০ দিনের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কাজেই ই-প্রাপ্তি পোর্টাল চালু হলে এই পরিষেবা আরও দ্রুত, সহজ ও ব্যবহার-বান্ধব হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।