• ‘খেতে-ঘুমোতে পারছি না তিন দিন ধরে, শুধু বাচ্চাগুলোর মুখ...’, মধ্যপ্রদেশের সেই ক্রুজ়চালক
    এই সময় | ০৩ মে ২০২৬
  • কার গাফিলতিতে এত বড় বিপর্যয়? মধ্যপ্রদেশে দুর্ঘটনার কবলে পড়া সেই ক্রুজ়ের চালক মহেশ প্যাটেলের বয়ান ঘিরেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মহেশকে ইতিমধ্যেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটিও তৈরি করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। গোটা ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে সেই ক্রুজ়চালক বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে কিছু খেতে পারছি না। ঘুমোতেও পারছি না। চোখের সামনে শুধু ওই বাচ্চাগুলোর মুখ ভেসে উঠছে!’

    জবলপুরের বরগী বাঁধে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারের বিলাসবহুল তরী দুর্ঘটনায় শনিবার আরও দুই শিশুর দেহ মিলেছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ১১। শুক্রবার পর্যন্ত এক শিশু-সহ ৮ মহিলার দেহ মিলেছিল। প্রশ্ন উঠেছে, ক্রুজ় ছাড়ার সময়ে কি যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল? সমস্ত নিয়মবিধি মানা হয়েছিল কি না, তারই তদন্ত করছে সরকারের গড়ে দেওয়া ওই কমিটি। মহেশ দাবি করেছেন, ঝড় ওঠা মাত্রই তিনি ক্রুজ়কর্মীদের বলেছিলেন, যাত্রীদের সকলকেই যাতে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘নীচের ডেকে অনেকে নাচানাচি করছিলেন। কর্মীরা আমায় জানিয়েছিলেন, কেউই লাইফ জ্যাকেট পরতে চাইছেন না। আমি আবার বলে পাঠালাম যে, আবহাওয়া খারাপ হয়েছে। সকলেরই লাইফ জ্যাকেট পরা উচিত।’

    যদিও ক্রুজ়যাত্রীদের একাংশ দাবি করেছেন, যাত্রার শুরুতে তাঁদের হাতে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়নি। সেগুলি এক জায়গায় জড়ো করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। ঝড় ওঠার পরে তাঁদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়ার কাজ শুরু হয়। শুধু তা-ই নয়, ক্রুজ় যখন ডুবে যাচ্ছিল, তখন মহেশই প্রথম পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ যাত্রীদের একাংশের। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্রুজ়চালক। তাঁর দাবি, ‘ক্রুজ় ছাড়ার সময়ে আমি ৩-৪ জন শিশুকেও বাঁচিয়েছি।’

    সংবাদমাধ্যমের কাছে মহেশ দাবি করেছেন, ‘খামারিয়া দ্বীপ থেকে যখন ক্রুজ় রওনা হয়েছিল তখন আকাশ পরিষ্কারই ছিল। বেশ কিছুটা যাওয়ার পরে জোরালো হাওয়া বইতে শুরু করে। উত্তাল ঢেউ শুরু হয় বাঁধের জলে। আবহাওয়া যে খারাপ হতে পারে এমন তথ্য আমাদের জানানো হয়নি।’ অথচ সে দিন ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল। তবে কি সেই বার্তা ক্রুজ় পর্যন্ত পৌঁছয়নি, না কি মহেশ অসত্য দাবি করছেন? এই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

  • Link to this news (এই সময়)